জার্মানির রক্ষণশীল নেতা ফ্রিডরিক মেয়াৎস সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায় করতে না পারায় দেশটির চ্যান্সেলর নির্বাচিত হতে পারেননি। ৬৩০ সদস্য বিশিষ্ট বুন্ডেস্টাগে মেয়াৎসের পক্ষে ৩১০টি ভোট পড়েছে, যা প্রয়োজনীয় ৩১৬ ভোটের ছয়টি কম।
ফেডারেল জার্মানির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো চ্যান্সেলর প্রথম দফায় নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হলেন। সংবিধান অনুযায়ী ১৪ দিনের মধ্যে সংসদে আবার নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে৷ তবে, মঙ্গলবার আর সংসদে ভোটাভুটি হবে না।
জার্মানির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্ডেস্তাগের প্রেসিডেন্ট জুলিয়া ক্লোকনার জানিয়েছেন, এরপর তারা কীভাবে এগোবে তা নিয়ে পার্লামেন্টের দলগুলো যেন শলাপরামর্শ করতে পারে তার জন্য তিনি অধিবেশন মুলতবি রাখছেন।

বুন্ডেস্টাগে মঙ্গলবার ফের আরেকটি ভোটের উদ্যোগ নিতে পারে অথবা মেয়াৎস বা অন্য কোনো চ্যান্সেলর প্রার্থীকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে জেতাতে আরও ১৪ দিন সময় নিতে পারে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই ভোটে প্রত্যাশিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারা মেয়াৎসের জন্য একটি অপ্রত্যাশিত ধাক্কা, কারণ তার দল খ্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন এবং মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস মিলে মোট ৩২৮টি আসনের অধিকারী।
ফলে এই ভোট একপ্রকার আনুষ্ঠানিকতা বলেই গণ্য হচ্ছিল। তবে ফলাফল একে চ্যালেঞ্জে রূপ দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মেয়াৎসের জোটে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ বা অসন্তোষ থাকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে।
জার্মান সংবিধান অনুযায়ী, এখন ১৪ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার ভোট আয়োজন করা হবে। তৃতীয় দফায় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই চ্যান্সেলর নির্বাচিত হওয়া সম্ভব। এই ব্যর্থতা মের্ৎসের নেতৃত্বের ওপর প্রশ্ন তুলেছে এবং জার্মান রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে মেয়াৎসের রক্ষণশীল দল ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করতে তাদের অন্তত একটি অংশীদার দরকার ছিল। সোমবার তারা মধ্য-বামপন্থি এসপিডির সঙ্গে জোট গড়ার চুক্তি করে। নির্বাচনে তৃতীয় স্থানে থাকা এসপিডি পেয়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দলটির সবচেয়ে খারাপ ফলাফল।
পেরুতে অপহরণের পর ১৩ খনি শ্রমিককে হত্যা
হামলার খবর জেনেই কাশ্মীর যাননি মোদী, দাবি বিরোধী নেতার