টানা কয়দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের সবকয়টি নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া পানি বেড়েছে মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীতে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, শুক্রবার (৩০ মে) সন্ধ্যা ছয়টায় চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ভোগাই, সোমেশ্বরী, মহারশি ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়লেও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবো আরও জানায়, দেশের উজানের বৃষ্টিপাত পরিস্থিতি ৩০ মে চেরাপুঞ্জি (মেঘালয়) ২১৭, শিলং (মেঘালয়) ১৩৫, আগরতলা (ত্রিপুরা) ১২২, কৈলাশহর (ত্রিপুরা)৮৫, গোয়ালপাড়া (আসাম) ৬৪, আইজলে (মিজোরাম) ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলায়ও গত বুধবার রাত থেকে বৃষ্টি বেড়েছে। ফলে মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢলে জেলার চেল্লাখালী, ভোগাই, মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।
পাউবোর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান বলেন, জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এর মধ্যে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে নদী রক্ষা বাঁধের কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই। শুক্র ও শনিবার বৃষ্টি না হলে নদীর পানি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জেলার শেরপুর পয়েন্টে ১০২ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ১১০ মিলিমিটার ও নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং ঢলের পানি বাড়লে বন্যার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। তবে, যদি বৃষ্টি ও ঢলের পানি না আসে তাহলে পানি দ্রুত নেমে যাবে আশা করছি। এছাড়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
