বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পর সেসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদাবাজির অভিযোগে এক থাই নারীকে গ্রেপ্তার করেছেন দেশটির পুলিশ। সেই সঙ্গে ওই নারীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ভিক্ষুদের ব্লাকমেইল করার জন্য ব্যবহৃত ৮০ হাজারের উপর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে থাই পুলিশ জানিয়েছে, ‘মিসেস গলফ’ নামে পরিচিত ওই নারী কমপক্ষে ৯ জন ভিক্ষুর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন এবং সেসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছেন। পুলিশের ধারণা গত তিন বছরে মিসেস গলফ ভিক্ষুদের কাছ থেকে প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার পেয়েছেন।
থাই পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মিসেস গলফের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা ভিক্ষুদের ব্ল্যাকমেইল করার জন্য ব্যবহৃত ৮০ হাজারেরও বেশি ছবি ও ভিডিও পেয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর, এখন মিসেস গলফকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন আরও তথ্য জানার আশা করছে থাই পুলিশ।
এই কেলেঙ্কারির থাইল্যান্ডের অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধার বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে নাড়া দেয়ার সর্বশেষ ঘটনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিক্ষুদের যৌন অপরাধ এবং মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে জর্জরিত থাই বৌদ্ধ সমাজ।

পুলিশ জানিয়েছে, ব্যাংককের এক মঠশিল্পী এক নারী কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের পর হঠাৎ করেই সন্ন্যাসীর পদ ছেড়ে দেন। এই নিয়ে একটি নালিশ আসার পর এই জুনের মাঝামাঝি সময়ে বিষয়টি প্রথম তাদের নজরে আসে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ২০২৪ সালের মে মাসে মিস গলফের সাথে সন্ন্যাসীর যৌন সম্পর্ক ছিল।
পরে মিসেস গলফ তার সন্তানের ভরণপোষণের জন্য ওই মঠশিল্পীর কাছ থেকে প্রায় সোয়া দু’লাখ মার্কিন ডলার আদায় করেন। কর্তৃপক্ষ তখন জানতে পারে, শুধু ওই মঠশিল্পী বেশ কয়েকজন ভিক্ষু একইভাবে মিসেস গলফকে একইভাবে অর্থ দিয়েছিলেন। পুলিশের তদন্তে এসেছে, চাঁদাবাজির সব অর্থ ওই নারী জুয়ায় ব্যবহার করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই মাসের শুরুতে যখন তদন্তকারীরা মিস গলফের বাড়িতে তল্লাশি চালায়, তখন তারা তার ফোন জব্দ করে এবং ৮০ হাজারের বেশি ছবি ও ভিডিও খুঁজে পায় যা তিনি ভিক্ষুদের ব্ল্যাকমেইল করার জন্য ব্যবহার করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অর্থপাচার ও চোরাই জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
