গাজা সিটির জেইতুন এলাকার সব বাড়িঘর ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইলের সেনাবাহিনী। চলতি মাসের শুরুতে গাজা সিটি দখলে অভিযান শুরুর পর থেকে এলাকাটির দেড় হাজার বাড়িঘর মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে এখানকার বাসিন্দারা এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।
গাজা সিভিল ডিফেন্সের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, এরই মধ্যে, ওই এলাকায় নির্মাণ যন্ত্র ও সে কাজে সহায়তার জন্য পাঠানো হয়েছে রোবট। জানা যায়, ড্রোন হামলা করে ধ্বংস করা হয় প্রতিটি বাড়ি।
গাজা সিটি দখলের লক্ষ্যে চলতি মাসের শুরুর দিকে জেইতুন এলাকায় স্থল অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। অভিযানের অংশ হিসেবে এই এলাকার সব ভবন গুড়িয়ে দিয়ে বাসিন্দাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
গাজা সিভিল ডিফেন্স-এর মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, জেইতুন এলাকার দক্ষিণ অংশে কোনো ভবন এখন আর দাঁড়িয়ে নেই।
মাহমুদ বাসাল আরও জানান, ইসরাইলি বাহিনী রোবটের পাশাপাশি অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে প্রতিদিন সাতটি ভবনে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে এবং কোয়াডকপ্টার ড্রোন ব্যবহার করে বাড়ির ছাদে বিস্ফোরক ফেলছে।
এভাবে ভবন ধ্বংসের ফলে জেইতুনের ৮০ শতাংশ বাসিন্দা গাজা শহরের পশ্চিম বা উত্তরাঞ্চলের দিকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিগবিদিক পালাচ্ছেন বাসিন্দারা।
৬০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা সাদ আবেদ বলেন, হঠাৎ খবর এলো ট্যাংক ঢুকেছে। বিস্ফোরণের শব্দ বাড়তে থাকে, মানুষ পালিয়ে আমাদের এলাকায় চলে আসে।
বুধবার ইসরাইলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচাই আদ্রেয়ি এক বিবৃতিতে বলেন, গাজা সিটি খালি করা অনিবার্য। দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের শরণার্থী শিবিরে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, গাজা সিটিই হলো ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের শেষ ঘাঁটি। তাই নতুন অভিযান শুরু হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ২২ লাখ মানুষের অর্ধেক এখন এই শহরে বসবাস করছে।
এদিকে, গাজায় চলমান দুর্ভিক্ষের মধ্যে, অপুষ্টি ও অনাহারে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে আরও এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু।
বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চালানো হামলায় সাতজন নিহত হয়েছে। এদিকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছে।
এরই মধ্যে, গাজার পরিস্থিতি নিয়ে হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন জ্যারেড কুশনার এবং প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।
হোয়াইট হাউসে বুধবার গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক আহ্বান করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, এ বছরের মধ্যেই যুদ্ধের অবসান ঘটবে। আলাদাভাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সারের সঙ্গে।
আফগানিস্তানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরলো ২৫ প্রাণ, আহত ২৭
গাজাবাসীদের জন্য রোজা থাকছেন ৫০ দেশের ১৫০ আলেম