৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ। গত ২৪ ঘণ্টায় পাঞ্জাবে বন্যায় মারা গেছে ১৩ জন। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে লাখ লাখ বাসিন্দাকে। বন্যায় আজাদ কাশ্মীরে এদিন প্রাণ হারিয়েছে কমপক্ষে একজন।
এদিকে, ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে এক পরিবারের সাতজনসহ মারা গেছে ১১ জন। আর বন্যায় পাঞ্জাব প্রদেশের এক হাজারের বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে । মৃতের সংখ্যা ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পাকিস্তানের পাঞ্জাব। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ফুলে উঠেছে- রাভি, শতদ্রু ও চেনাব নদীর পানি। ভারত বাঁধ খুলে দেয়ার পর পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এরইমধ্যে তলিয়ে গেছে দেড় হাজারের বেশি গ্রাম ও শত হেক্টর ফসলি জমি।

বন্যার কারণে পাঞ্জাব প্রদেশের প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এক রাতের ব্যবধানে এসব নদীতে পানি বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ কিউসেক। এতে তলিয়ে গেছে আশেপাশের গোটা অঞ্চল। কোমর সমান পানিতে আশ্রয় শিবিরে ছুটে যাচ্ছেন বাসিন্দারা।
এছাড়া বন্যার কারণে প্লাবিত হয়েছে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোরের বেশিরভাগ অংশ। বন্যার কবলে পড়েছে ১০ লাখের বেশি মানুষ। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ বাসিন্দাকে।
এরই মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। বন্যাকবলিত বাসিন্দাদের সব ধরনের সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া, বন্যায় নিখোঁজদের উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বন্যাদুর্গত এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ৭ শতাধিক ত্রাণকেন্দ্র। অস্থায়ী আশ্রয়ের জন্য স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার তাঁবু।
টানা দ্বিতীয় দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পাকিস্তানের শেয়ালকোট শহর। তলিয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়ক। পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুক্র ও শনিবার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে, ভারতের ছত্তিশগড়ে ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় শতাধিক গবাদি পশুসহ মারা গেছে বেশ কয়েকজন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৫শ’টি বাড়ি এবং ১৬টি কালভার্ট ও সেতু। টানা তিনদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভারতের পাঞ্জাব অংশে প্লাবিত হয়েছে ৮ শতাধিক গ্রাম।
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। জম্মু-কাশ্মীরে শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত। দক্ষিণের তেলেঙ্গানা রাজ্যে রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে গঙ্গা ও যমুনা নদীর পানিও বেড়েছে। এছাড়া, হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পূর্বাভাস দিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।
পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সদরদপ্তরে বিজেপির হামলা-ভাঙচুর
জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে মাহমুদ আব্বাস