শেষ পর্যন্ত মার্কিন সংবাদ ও গণমাধ্যমের আশঙ্কাই সত্যি হতে যাচ্ছে। ভেনেজুয়ালায় আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। লাতিন আমেরিকার দেশটিতে বিভিন্ন মাদক কেন্দ্র ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালাতে পারে বলে বেশ কয়েক দিন ধরেই বলে আসছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো।
এমন খবরের মধ্যেই জানা গেছে, ভেনেজুয়েলায় আক্রমণে উদ্দেশে ক্যারিবীয় দ্বীপে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-থার্টিফাইভ স্টেলথ ফাইটার জেট মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মাদককেন্দ্র লক্ষ্য করে যেকোনো সময় হামলা হতে পারে শঙ্কা জানিয়েছে সিএনএনসহ মার্কিন বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
এর আগে আটটি যুদ্ধ জাহাজে ১২ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের কথা জানায় পেন্টাগন। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের উত্তেজনা বেশ তুঙ্গে রয়েছে। ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাসীন সরকারকে হটাতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা বলে অভিযোগ দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর।

ট্রাম্প যদি তার দেশে হামলা করে তবে এর পাল্টা জবাব দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি তার। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সোজা কথায় জানিয়ে দিয়েছে, ভেনেজুয়েলার সরকার পরিবর্তনের কোন ইচ্ছে তাদের নেই। দেশটির মাদক মার্কিন নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই সেটি নির্মূল করাই হোয়াইট হাউসের লক্ষ্য।
ভেনিজুয়েলার নেতা মাদুরো শুক্রবার ওয়াশিংটনের সাথে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সামরিক বিমানগুলো যদি মার্কিন বাহিনীর জন্য বিপদ ডেকে আনে, তাহলে সেগুলো গুলি করে ভূপাতিত করার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি এই আহবান জানিয়েছেন।
ভেনিজুয়েলার সব রেডিও-টিভি নেটওয়ার্কে সম্প্রচারিত বার্তায় মাদুরো বলেছেন, আমাদের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে এবং যা আগে ছিল তার কোনোটিই সামরিক সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে না। ভেনিজুয়েলা সবসময় কথা বলতে, সংলাপে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক। কিন্তু আমরা সম্মান দাবি করি।

উত্তেজনা বৃদ্ধির সাথে সাথে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন পুয়ের্তো রিকোতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে। ট্রাম্প মাদুরোর ওপর চাপ বাড়ানোর সাথে সাথে দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে ইতোমধ্যেই উপস্থিত মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ১০টি বিমান যোগ দেবে। যার ফলে মাদুরোর বিরুদ্ধে আমেরিকা মাদক পাচারকারী চক্রের নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ তুলেছে।
মাদুরো তার সন্ধ্যার ভাষণে তা অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মাদুরো বলেছেন, তারা (ট্রাম্প) যে গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো দেয় তা সত্য নয়। ভেনিজুয়েলা আজ কোকা পাতা উৎপাদন, কোকেন মুক্ত একটি দেশ এবং মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে এমন একটি দেশ।

এদিকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলার মাদুরোকে ‘অভিযুক্ত মাদক পাচারকারী’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, ভেনিজুয়েলা একটি ‘ড্রাগ কার্টেল একটি মাদক পাচারকারী সংগঠন’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
মার্কিন এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এই সপ্তাহে জানিয়েছেন, বর্তমানে লাতিন আমেরিকায় মাদকবিরোধী প্রচেষ্টায় আটটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ জড়িত রয়েছে: তিনটি উভচর আক্রমণকারী জাহাজ, দুটি ডেস্ট্রয়ার, একটি ক্রুজার এবং ক্যারিবিয়ানে একটি লিটোরাল যুদ্ধ জাহাজ এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি ডেস্ট্রয়ার।
নেপালে বন্ধ হচ্ছে ফেসবুক ইউটিউব ও এক্স