গাজামুখী সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরাইলি বাহিনী হানা দেয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে বিশ্বজুড়ে। জাহাজগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল। ছুড়েছে জলকামান, আটক করেছে কর্মীদের। ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে। বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশর সব স্তরের মানুষ। ফ্লোটিলায় হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে, তুরস্ক, ইতালি, স্পেন, জার্মানির বার্লিন, গ্রিস এবং আর্জেন্টিনায়।
ফ্লোটিলায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ফ্যাসিবাদী ও সামরিকতাবাদী নীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা আটক হওয়া তুর্কি নাগরিকদের মুক্তির দাবিতে আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। বিক্ষোভ হয়েছে রাজধানী আঙ্কারার ইসরাইলি দূতাবাসের বাইরেও।

বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, আমাদের সমর্থন অবশ্যই ফ্লোটিলার পক্ষে। সারা বিশ্ব থেকে জাহাজ যাচ্ছে। ইসরাইলের এমন হীন কাজের জবাব দেয়ার জন্য আমাদের সরকারকে অনুরোধ করছি।
গাজার জন্য ত্রাণ নিয়ে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক মানবিক নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকে দেয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে ইতালির সাধারণ মানুষ। প্রতিবাদ জানিয়ে ইতালির সবচেয়ে বড় শ্রমিক সংগঠন দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ইতালির বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলো হয়েছে রাজধানী রোম এবং মিলানে।

ফ্লোটিলায় আটকে দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে ইউরোপের আরেক দেশ গ্রিসে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে বিক্ষোভে জড়ো হয়েছেন সাধারণ নাগরিকরা। ইউরোপে ছাড়িয়ে লাতিন দেশ আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আন্দোলনকারীরা আটক হওয়া কর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।
ইসরাইলের হাতে আটক হওয়া জাহাজগুলোর একটিতে রয়েছেন আর্জেন্টাইন আইনপ্রণেতা সেলেস্ট ফিয়েরো। তিনি বলেন, আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি, ফ্লোটিলায় যেন ইসরাইলি সেনারা না ঢোকে। ওখানে আমাদের নেতাদের আটক করা হয়েছে। বিশ্ববাসীর প্রতি দাবি, আওয়াজ তুলুন। এটা একটা সন্ত্রাসী হামলা। এর প্রতিবাদ করুন।
তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে গাজার প্রতি সমর্থন এবং ফ্লোটিলা আটকে দেয়ার প্রতিবাদে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। এসময় ইসরাইলবিরোধী নানা শ্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
ইসরাইলের বাধা উপেক্ষা করে গাজার কাছাকাছি ফ্লোটিলার ৩০ নৌযান