মানিকগঞ্জ শহরে ‘অভি অলঙ্কার’ নামে একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে পাঁচ জনকে আটক ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। আটকদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশের ভাষ্য, ওই দোকানে মূলত ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। যা ঘটেছে তা ছিলো পরিকল্পিত নাটক, এর উদ্দেশ্য গ্রাহকের স্বর্ণ আত্মসাৎ। তবে ঘটনার রাতে দোকান মালিকের স্বর্ণ খোয়া যাওয়ার দাবি ও উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ অনেকটা গোলমেলে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন ডাকাতির রহস্য ও স্বর্ণ উদ্ধারের ব্যাপারে জানান।
আটকরা হলেন- অভি অলঙ্কারের মালিক শুভ দাস (৩৫), তার সহযোগী আমানত হোসেন রানা (২৭), সোহান মিয়া (২১), মো. শরীফ খান (২২) ও মো. সবুজ মিয়া (২৭)।
রোববার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভার পৌলী এলাকার শাইলীপাড়া ও শিবালয় থানার মহাদেবপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, গত পাঁচ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের পশ্চিম দাশড়া এলাকার স্বর্ণাকার পট্টিতে ওই দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে বলে খবর পাওয়া যায়। দোকান মালিকের ভাষ্য, অজ্ঞাত দুই দুর্বৃত্ত তার গলায় ছুরি ধরে লকারে থাকা ২০ থেকে ২২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাকে ছুরিকাঘাত করে আহত করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি।
তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, দোকান মালিক শুভ দাস নিজেই গ্রাহকদের স্বর্ণ আত্মসাৎ করার উদ্দেশে এই ডাকাতির নাটক সাজান। তার পরিচিত মোটরসাইকেল মেকানিক আমানত হোসেন রানার সঙ্গে এর জন্য পাঁচ লাখ টাকায় মৌখিক চুক্তি করেন।
এসপি ইয়াছমিন জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯ সেপ্টেম্বর রানা তার সহযোগী শরীফ খান ও অন্য একজনকে এনে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি হোটেলে রাখেন। তাদের থাকা-খাওয়ার খরচও বহন করেন শুভ। দুর্গাপূজা শেষে পাঁচ অক্টোবর রাতেই তারা ‘ডাকাতি’ ঘটনাটি বাস্তবায়ন করেন। দোকানের লকারে থাকা ভুয়া স্বর্ণ লুট এবং শুভ দাসের পিঠে ছুরিকাঘাত সবই ছিলো পরিকল্পিত নাটকের অংশ।
ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি চাকু, আসামিদের পরা পোশাক ও লুটের সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন স্টিলের বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মোট ৩৭ ভরি সাত আনা স্বর্ণও জব্দ করা হয় বলে জানান পুলিশ সুপার। এর মধ্যে এক জোড়া হাতের বালায় শুধু স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া ছিলো। তবে দোকান মালিক প্রথমে ২০ থেকে ২২ ভরি স্বর্ণ খোয়া যাওয়ার দাবি করেছিলেন। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের ধারণা, এখানে বন্ধকি স্বর্ণও থাকতে পারে। যদিও সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত এ ব্যাপারে এখনও কেউ দাবি করেন নাই।
পুলিশ সুপারের দাবি, শুভ দাস নিজেই তার কাছে রক্ষিত গ্রাহকদের স্বর্ণ আত্মসাৎ করার উদ্দেশে এই সাজানো ডাকাতির নাটক তৈরি করেন। আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি। এই ঘটনায় আরও একজন পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
ঘাটে পঁচছে দুই নৌ অ্যাম্বুলেন্স, একটির কথা জানেনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা