জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম নেতা মীর আরশাদুল হক নাটকীয়ভাবে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বাঁশখালী (চট্টগ্রাম-১৬) আসন থেকে এনসিপির দেওয়া মনোনয়নও প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এনসিপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ মীর আরশাদুল হক বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দলটির সব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে এনসিপি থেকে প্রাপ্ত মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি এই বিস্ফোরক ঘোষণা দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী এই শিক্ষার্থী তার পোস্টে এনসিপি ছাড়ার কারণ হিসেবে দলের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন।
তিনি লিখেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এনসিপির যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত ১০ মাসের অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে, এই দল ও নেতারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। দল ও বড় অংশের নেতারা এখন ভুল পথে আছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যে স্বপ্ন দেখে তিনি দলটিতে যোগ দিয়েছিলেন, তার কিছুই এখন আর অবশিষ্ট নেই।
মীর আরশাদুল হক এমন দিনে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন, যেদিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন। পোস্টে তিনি তারেক রহমানকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে লেখেন- সুস্বাগতম।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের বিভিন্ন কার্যক্রম ও বক্তব্য পর্যালোচনা করে আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হচ্ছে- এই মুহূর্তে সবাইকে ধারণ করে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা ও সক্ষমতা কেবল তিনিই রাখেন।
তিনি আরও বিশ্বাস করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বিএনপি ও জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে আগামীতে সরকার গঠন করবে।
মীর আরশাদুল হক এনসিপির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। তিনি একাধারে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব, নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য, মিডিয়া সেল ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, পরিবেশ সেলের প্রধান এবং চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই সব পদ থেকে একযোগে পদত্যাগের ফলে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে আরশাদুল হক একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগ এবং নির্বাচন না করার ঘোষণায় বাঁশখালীর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে।
মায়ের জন্য দোয়া চাইলেন তারেক রহমান