পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পিসিবি প্রধান মহসিন নকভীর বৈঠকের পরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। নকভী জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে আলোচনাধীন এবং সব ধরনের বিকল্প পথই খোলা রাখা হয়েছে; এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার অথবা সোমবারের মধ্যে আসতে পারে। পিসিবির এমন সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।
বাংলাদেশের পর এখন সবার নজর পাকিস্তানের দিকে, যারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার পাকিস্তান সরকারের ওপর ন্যস্ত, যারা আগামী সোমবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতীয় ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ- বিসিসিআই’র সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা বাংলাদেশের বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রতিবেশী দেশটিকে ‘অহেতুক হস্তক্ষেপ’ এবং ‘বিভ্রান্ত করার চেষ্টার’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন তিনি।
সোমবার সংবাদ সংস্থা এএনআইকে শুক্লা বলেন, পাকিস্তান কোনো কারণ ছাড়াই এই বিষয়ে নাক গলাচ্ছে এবং বাংলাদেশকে উসকানি দিচ্ছে... বাংলাদেশের মানুষের ওপর পাকিস্তান যে নির্মমতা চালিয়েছিল তা সবারই জানা, আর এখন তারা তাদেরই বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ ভুল...।
আইসিসির সঙ্গে বিবাদের পুরো সময়জুড়ে পাকিস্তানই ছিল একমাত্র সদস্য দেশ যারা বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে, বিসিবি তাদের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়। বিসিসিআই’র পক্ষ থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাদের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর এই সমস্যার সূত্রপাত হয়।
আইসিসি এই ইস্যুতে বিসিবির সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করলেও তাদের অবস্থান স্পষ্ট ছিল, বিশ্বকাপের সূচিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। কিন্তু বিসিবি তাদের দাবিতে অনড় থাকায় আইসিসির সামনে বিকল্প কোনো পথ খোলা ছিল না। ফলে তারা স্কটল্যান্ডকে পরিবর্তিত দল হিসেবে ঘোষণা করে, যা কার্যত বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপের দরজা বন্ধ করে দেয়।
আইসিসি-র এই ঘোষণার পরপরই লাহোরে সাংবাদিকদের পিসিবি প্রধান মহসিন নকভী বলেন, বাংলাদেশের প্রতি আইসিসি-র এই আচরণ ‘অন্যায্য’। এই ঘটনার পর বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করার সময় এসেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এনিয়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে রোববার বৈঠকও করেন নকভী। সেখানেই তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। কিন্তু তার পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি নিয়ে উত্তেজনাকে প্রশমিত না করে আরও প্রলম্বিত করলেন পিসিবি কর্তা।
