ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক অচলাবস্থা নিরসনে তুরস্ক আবারও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা পুনরায় শুরু করতে তুরস্ক একটি বিশেষ চাঞ্চল্যকর সমাধান সামনে এনেছে। আঙ্কারা প্রস্তাব দিয়েছে, ইরান তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার তুরস্কের কাছে হস্তান্তর করতে পারে, যা একটি নির্দিষ্ট চুক্তির আওতায় সেখানে সংরক্ষিত থাকবে।
ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম- হারেৎজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তুরস্কের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান তাদের প্রায় ৪৪০ কেজি (৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ) ইউরেনিয়াম তুরস্কে স্থানান্তরের প্রস্তাব পেতে পারে। আঙ্কারা এই মর্মে নিশ্চয়তা দেবে, এই তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো কখনোই ইরানের কাছে ফেরত পাঠানো হবে না। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ইরানের সম্ভাব্য আলোচনা শুরুর পথ সুগম করতেই এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
তুরস্কের জন্য এই ধরনের মধ্যস্থতা নতুন কিছু নয়। ২০১০ সালেও তুরস্ক, ব্রাজিল এবং ইরান একটি চুক্তিতে সই করেছিল, যেখানে ১,২০০ কেজি স্বল্প-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আঙ্কারার কাছে জমা রাখার কথা ছিল। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বিরোধিতার মুখে সেই চুক্তি ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির অধীনে ইরানের প্রায় ১১,০০০ কেজি ইউরেনিয়াম নিজেদের জিম্মায় নিয়েছিল রাশিয়া।
রাশিয়াও সম্প্রতি প্রস্তাব দিয়েছে, কোনো নতুন চুক্তি হলে তারা ইরানের অবশিষ্ট ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ করতে প্রস্তুত। তবে তুরস্কের দাবি, ট্রাম্প ও এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ওয়াশিংটনের কাছে রাশিয়ার চেয়ে তুরস্ক অনেক বেশি ‘নির্ভরযোগ্য’ রক্ষক হিসেবে গণ্য হতে পারে। বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা বিশ্বের অনাস্থা তুরস্কের এই প্রস্তাবকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
এই প্রস্তাবের বিষয়ে ইরান এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ গত শুক্রবার জানিয়েছেন, যে কোনো ভবিষ্যৎ সমঝোতার অংশ হিসেবে তারা ইরানের ইউরেনিয়াম গ্রহণ করতে আগের মতোই প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি তাদের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার কোনো তৃতীয় দেশের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়, তবে সেটি হবে ট্রাম্প প্রশাসনের দেয়া ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ শর্ত পূরণের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, তেহরান মস্কোকে বেছে নেয় না কি আঙ্কারার ওপর আস্থা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার শর্ত খতিয়ে দেখছে ইরান
আগাম বার্তা ছাড়াই মার্কিন মিত্রদের ওপর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের