আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম আবারও উজ্জ্বল করলেন নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। শুক্রবার রাতে নেদারল্যান্ডসের মর্যাদাপূর্ণ ৫৪তম রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেছে তার পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মাস্টার’। এই জয়কে বাংলাদেশের সিনেমার জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
‘মাস্টার’ চলচ্চিত্রটি এই পুরস্কারের জন্য লড়েছে বিশ্বখ্যাত সব নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের কাজের সঙ্গে। প্রতিযোগিতায় ছিলো অস্কার মনোনীত ছবি 'সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু'-র তারকা রেনাটা রেইনসভে অভিনীত 'বাটারফ্লাই', পিটার মুলেন অভিনীত 'স্যার ওয়েদারফোর্ড', ক্লাস ব্যাং অভিনীত 'হোম' এবং ইসাবেল স্যান্ডোভালের 'মুনগ্লো'-এর মতো শক্তিশালী সব চলচ্চিত্র। বিশ্বমানের এই প্রতিযোগিতায় নাসির উদ্দিন খান, আজমেরী হক বাঁধন এবং জাকিয়া বারী মম-এর দুর্দান্ত অভিনয় সমৃদ্ধ ‘মাস্টার’ শেষ পর্যন্ত সেরার মুকুট ছিনিয়ে নেয়।
বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড জয়ের ফলে ছবিটির পরিচালক পাচ্ছেন ১৫ হজার ইউরো (যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ লাখ টাকা) এছাড়া নেদারল্যান্ডসে ছবিটির পরিবেশনার জন্য পরিবেশককেও ১৫ হাজার ইউরো দেওয়া হবে। অর্থাৎ সর্বমোট ৪৩ লাখ টাকার সমপরিমাণ অর্থ পুরস্কার পাচ্ছে চলচ্চিত্রটি।
পুরস্কার ঘোষণার সময় রটারডাম উৎসবের জুরি বোর্ড ‘মাস্টার’ সম্পর্কে তাদের অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলেন, এটি একজন ব্যক্তির আদর্শ ধরে রাখার সংগ্রামের এক সার্বজনীন গল্প, যে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ও পুঁজিবাদের প্রলুব্ধকর ও বিধ্বংসী শক্তির চাপে পিষ্ট হয়। আদর্শ বনাম দুর্নীতির একটি আপাত সহজ সরল গল্প হিসেবে শুরু হলেও চলচ্চিত্রটি ধীরে ধীরে অত্যন্ত জটিল ও গভীর স্তরে উন্মোচিত হয়। চমৎকার অভিনয় আর প্রাণবন্ত দৃশ্যায়নের মাধ্যমে মূল চরিত্রটি নৈতিক দোলাচলের বিষয়টি নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে এবং দেখিয়েছে কীভাবে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার জয় হয়।
একজন স্কুল শিক্ষকের রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা এবং উপজেলা পর্যায়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও নানা সামাজিক বাস্তবতাকে উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছে ‘মাস্টার’। এর আগে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের প্রথম চলচ্চিত্র ‘নোনাজলের কাব্য’ বাংলাদেশে সেরা চলচ্চিত্রসহ মোট সাতটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ‘মাস্টার’ এবার বিশ্বমঞ্চে নিজের জাত চেনালো।
