আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসনকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই এলাকাগুলোতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, সংঘর্ষ বা নাশকতা মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে সাজানো হচ্ছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সেনাবাহিনীর মিরপুর ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম ফুয়াদ মাসরুর।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা ঢাকাকে তিন ভাগে ভাগ করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ঢাকা-১৪, ১৬ ও ১৮ আসনের মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ১৮ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ।
এর মধ্যে ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসনকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী কেন্দ্রগুলোকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’, ‘মধ্যম’ ও ‘সাধারণ’-এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে প্রয়োজনীয় ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে।
ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসন নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মূল উদ্বেগের কারণ এই দুই আসনের হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
মিরপুর, শাহ আলী ও দারুসসালাম এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির সানজিদা ইসলাম তুলির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মীর আহমাদ বিন কাসেম (মীর কাশেমের ছেলে)। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু।
মিরপুর, পল্লবী ও রূপনগর নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৬ আসনে মুখোমুখি লড়াইয়ে আছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক বিএনপি নেতা আমিনুল হক এবং জামায়াতের কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফুয়াদ মাসরুর জানান, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসা-যাওয়া নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা গুজব ছড়িয়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে সেনা কর্মকর্তা বলেন, যেকোনো নাশকতার তথ্য প্রচারের আগে তা প্রাথমিক যাচাই করা জরুরি, যাতে উসকানিমূলক সংবাদ পরিবেশিত না হয়। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচনের প্রার্থীদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তাও সেনাবাহিনী নিশ্চিত করবে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত ও নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানোর কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালটগুলো গণনার আগ পর্যন্ত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় বর্তমানে এক ধরনের থমথমে কিন্তু সতর্ক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নির্বাচনে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান