ভারত বনাম পাকিস্তান মহারণকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট বিশ্বে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার আইসিসির কাছে এক নতুন ও সুদূরপ্রসারী দাবি তুলেছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। কলম্বোয় ১৫ ফেব্রুয়ারির হাইভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে সমঝোতা আলোচনার মাঝেই পিসিবি ও বিসিবি যৌথভাবে প্রস্তাব দিয়েছে, বর্তমানে চালু থাকা হাইব্রিড মডেলের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে হবে। মূলত ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলা এড়াতেই এই কৌশলগত দাবি তোলা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের জট খোলার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই নতুন মোড় নিল ক্রিকেট রাজনীতি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের বিনিময়ে এবার ২০৩১ সাল পর্যন্ত ‘হাইব্রিড মডেল’ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে পাকিস্তান পিসিবি) ও বিসিবি।
২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভারত ও বাংলাদেশে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। বর্তমানে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী হাইব্রিড মডেলের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। তবে সূত্র মতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ চাইছে এই মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়াতে।
এর ফলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তাদের সব ম্যাচ বাংলাদেশে খেলার সুযোগ পাবে এবং তাদের ভারতের মাটিতে গিয়ে খেলতে হবে না। মূলত ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার বিষয়টিকে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতেই এই চাল দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আইসিসি, পিসিবি এবং বিসিবির মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টা ব্যাপী এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাভি এবং বিসিবির প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বুলবুল উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি। পিসিবি সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান সরকারের চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
হাইব্রিড মডেল আসলে কী?
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার জন্য ভারত পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর এই মডেলের উদ্ভব হয়। পাকিস্তান আয়োজক হওয়া সত্ত্বেও ভারতের সব ম্যাচ দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
এই মডেল অনুসারেই পাকিস্তান ভারতের মাটিতে খেলতে যাচ্ছে না। ফলে পাকিস্তানের সব ম্যাচ (এমনকি ফাইনাল হলেও) শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির হাইভোল্টেজ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটিও কলম্বোয় আয়োজনের সিদ্ধান্ত এই মডেলেরই অংশ।
উল্লেখ্য যে, বয়কট প্রত্যাহারের বিনিময়ে পাকিস্তান এর আগে আরও তিনটি শর্ত দিয়েছিল। এক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জন্য বর্ধিত ক্ষতিপূরণ প্রদান। দুই, বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া সত্ত্বেও বাংলাদেশকে অংশগ্রহণ ফি দেয়া। তিন. ভবিষ্যতে পাকিস্তানে বড় কোনো আইসিসি ইভেন্টের একক আয়োজক স্বত্ব নিশ্চিত করা।
ভারতের সহ-আয়োজক হিসেবে ২০৩১ বিশ্বকাপের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার এই প্রচেষ্টায় আইসিসি কতটা সায় দেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বিপুল অর্থ ও দর্শকপ্রিয়তা। এই হাইব্রিড মডেল স্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক ক্রিকেটের সূচি এবং ব্যবসায়িক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
