ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রথমবারের মতো এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যের শুরুতে দেশবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই বিজয় গণতন্ত্রের, এই বিজয় বাংলাদেশের। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে একটি জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতন্ত্রের ‘বাতিঘর’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, আর বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।

নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের প্রতিহিংসা বা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন, বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে কোনো মূল্যে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ কোনো অজুহাতেই মেনে নেয়া হবে না। আইন সবার জন্য সমান হবে; চাই সে সরকারি দল হোক বা বিরোধী দল। ভোটের মাঠের ভুল বোঝাবুঝি যেন প্রতিশোধে রূপ না নেয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

তারেক রহমান পুনর্ব্যক্ত করেন, বিএনপি ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক দলের সমন্বয়ে প্রণীত ‘৩১ দফা’ এবং ‘জুলাই সনদ’ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে তিনি নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। জনগণের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে তাঁদের আস্থার প্রতিদান দেয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করে ভারতসহ সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

চীনকে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী উল্লেখ করে বিএনপির শীর্ষ নেতা বলেন, দেশের উপকারে আসলে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জানান, সার্ক যেহেতু বাংলাদেশের উদ্যোগ ছিল, তাই বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একে পুনরায় সচল করার চেষ্টা করবে বিএনপি সরকার।
ভঙ্গুর অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন সরকার নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ মহলকে সুযোগ না দিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারেক রহমান আবেগাপ্লুত হয়ে প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আজকের এই আনন্দঘন পরিবেশে তাঁর অনুপস্থিতি আমাদের ভারাক্রান্ত করে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন লড়াই আজ সফল হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সূচনা বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সমাপনী বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিপুল সংখ্যক সংবাদকর্মী ও পর্যবেক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
