জেনেভায় আসন্ন পরমাণু আলোচনার ঠিক আগ মুহূর্তে ইরানকে কড়া বার্তা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করলেও ইরানের ওপর সামরিক হামলার পরিকল্পনা বা ‘কন্টিনজেন্সি প্ল্যান’ পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সোমবার কলোরাডো সফরের সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপে পিট হেগসেথ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরান যদি এই সুযোগ হাতছাড়া করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্টের সামনে সব ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা তুলে ধরবে। সামরিক হামলার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সব কিছুই টেবিলের ওপর রয়েছে। তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, একটি ভালো চুক্তিতে আসা হবে তেহরানের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।
এদিকে, মার্কিন গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়েছিল, জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের সাথে যুদ্ধের ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছেন। তবে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে এই খবরকে ‘শতভাগ ভুল’ এবং ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি শুধু তিনিই নেবেন। তিনি আরও যোগ করেন, আমি যুদ্ধের চেয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোকেই বেশি প্রাধান্য দেব। কিন্তু যদি চুক্তি না হয়, তবে দেশটির (ইরান) জন্য সেটি হবে একটি অত্যন্ত ভয়াবহ দিন।
তিনি ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করলেও তাঁর হুঁশিয়ারি থেকে এটি স্পষ্ট যে, সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা তিনি নাকচ করছেন না।
আগামী বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল পুনরায় আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। একদিকে যুদ্ধের ব্যাপক প্রস্তুতি এবং অন্যদিকে পরমাণু চুক্তির শেষ চেষ্টা, এই দুই পরিস্থিতির মাঝে জেনেভা বৈঠকটিই এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার, তারা ইরানকে একটি ‘উইন-উইন’ চুক্তির সুযোগ দিচ্ছে, কিন্তু সেই সাথে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি মানসিক চাপও বজায় রাখছে। ওয়াশিংটন এখন শুধু তেহরানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
মার্কিন সমরশক্তি অপরাজেয় নয়, ইরানি সেনাপ্রধানের চ্যালেঞ্জ
বৃস্পতিবার জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা বৈঠক