জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার তৃতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে তৃতীয় দফার এই পরোক্ষ পারমাণবিক চুক্তির এই আলোচনা। ওমানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই সংলাপকে ঘিরে গত বুধবার রাত থেকেই কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। এই আলোচনার সফলতার ওপর ইরানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল।
বুধবার রাতে জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদির সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে আরাগচি পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান ও বিবেচ্য বিষয়গুলো ওমানি পক্ষকে অবহিত করেন। ওমানের দীর্ঘদিনের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার প্রশংসা করে আরাকচি বলেন, আলোচনার সফলতা নির্ভর করছে অপর পক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র) গুরুত্ব এবং স্ববিরোধী আচরণ পরিহার করার ওপর।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল বুসাইদি কূটনৈতিক পথে ইরানের অবিচল থাকার প্রশংসা করেন এবং একটি সন্তোষজনক ফলাফলে পৌঁছাতে মাস্কাটের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এদিকে ইরানের উত্তরঞ্চলীয় মাজান্দারান প্রদেশে অর্থনৈতিক উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক সভায় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই আলোচনা নিয়ে তাঁর ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, একটি সফল চুক্তি দেশের উন্নয়নের পথে থাকা বাধাগুলো দূর করতে সহায়ক হবে।
প্রেসিডেন্টের মতে, বর্তমান প্রশাসন যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়, এই ক্ষয়িষ্ণু পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনতে চায়। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানেই এই আলোচনা পরিচালিত হচ্ছে। পেজেশকিয়ান আশা জানান, আলোচনার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত হলে ইরানের অর্থনৈতিক গতি ত্বরান্বিত হবে এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযোগ সহজতর হবে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর ভাষণে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপরও জোর দেন। তিনি জানান, তাঁর প্রশাসনের অধীনে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে এবং তাঁরা এই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চান।
ওমানের মধ্যস্থতায় গত কয়েক সপ্তাহে দুই দফা আলোচনার পর জেনেভার এই তৃতীয় দফা বৈঠকটিকে অত্যন্ত ‘ভাগ্যনির্ধারণী’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুই দেশের প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণে এই পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তেহরান এখন তাকিয়ে আছে জেনেভার দিকে, যেখানে কূটনীতির মাধ্যমেই নিষেধাজ্ঞার নাগপাশ থেকে মুক্তির পথ খুঁজছে ইরান।
শান্তি ও যুদ্ধ- উভয় পরিস্থিতির জন্যই ইরান প্রস্তুত: আরাগচি