মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল সংঘাত যখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ঠিক তখনই বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রধান শক্তি- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে মিলিত হয়েছেন। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প এই ফোনালাপকে অত্যন্ত ‘ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং জানিয়েছেন, পুতিন মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে ‘সহায়ক’ ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ক্রেমলিন জানিয়েছে সহায়তার সবগুলো প্রস্তাব এখনও সক্রিয় রয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সংঘাত শুরু হওয়ার আগে থেকেই পুতিন উত্তেজনা কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন, যা এখনো টেবিলে রয়েছে। রাশিয়া তার সক্ষমতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বনাম ইরান সংঘাত নিরসনে সাহায্য করতে প্রস্তুত। ইরানকে রুশ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের বিষয়ে ওঠা অভিযোগ নিয়ে পেসকভ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তিনি পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন, যাতে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আরও বেশি মনোযোগী হতে পারে। ক্রেমলিন স্পষ্ট করেছে, ট্রাম্প এই মুহূর্তে ইউক্রেনে কোনো যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানাননি।
রাশিয়া, ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে একটি ত্রিমুখী আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান খোঁজা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এই মধ্যস্থতা চালিয়ে যেতে আগ্রহী এবং পুতিন একে স্বাগত জানিয়েছেন।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে মার্কিন তেলের ওপর থেকে আংশিক নিষেধাজ্ঞা তোলার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
পেসকভের মতে, তেলের বাজারের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতেই যুক্তরাষ্ট্র কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার কথা ভাবছে। তবে এই বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।
ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই দ্বিমুখী সংকটে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনেইর মৃত্যু এবং ইরানে ১,৩০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানির পর মধ্যপ্রাচ্য এখন বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প মনে করেন, পুতিন এবং জেলেনস্কির মধ্যে যে ‘প্রবল ঘৃণা’ রয়েছে, তা ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানকে কঠিন করে তুলছে। তবে বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়ার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
রাশিয়া যদি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর তার প্রভাব খাটিয়ে উত্তেজনা কমাতে পারে, তবে তা ট্রাম্পের জন্য এক বড় কূটনৈতিক সাফল্য হবে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব তেলের বাজার এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটন ও মস্কোর এই নতুন সমঝোতার ওপর।
তথ্যসুত্র: আনাদুলু নিউজ ও ফক্স নিউজ
ইরানের সাথে আলোচনার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
ইসরাইলি হামলার ভীতিকর অভিজ্ঞতা জানালেন তেহরানের বাসিন্দারা
২৪ ঘণ্টায় চার মার্কিন রাডার ধ্বংসের দাবি ইরানের