সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসরটি বিশ্বে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার সাক্ষী হয়ে রইল। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে যেতে অস্বীকার করায় আসর থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ দল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সব ধরনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলেও, নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল বাংলাদেশ, যার ফলে তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে আসরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এই পুরো বিতর্কিত পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলেছেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। শনিবার রাতে মুম্বাইয়ে ‘ইন্ডিয়ান বিজনেস লিডার অ্যাওয়ার্ডসে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই প্রাক-টুর্নামেন্ট নাটকীয়তা এবং ক্রিকেট বিশ্বের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আলোকপাত করেন।

আসর শুরুর আগে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে জয় শাহ জানান, একটি সময় পুরো বিশ্বকাপের ভাগ্যই ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আইসিসির অবস্থান পরিষ্কার করে দেন।
তিনি বলেন, এই বিশ্বকাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ আসর শুরুর আগে অনেক গুঞ্জন চলছিল নির্দিষ্ট কিছু দল কি আদৌ অংশ নেবে? বিশ্বকাপ কি সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে? আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে আমি বলতে পারি, কোনো দলই সংস্থার চেয়ে বড় নয়। কোনো একক দল দিয়ে সংস্থা তৈরি হয় না; বরং সব দলের সমন্বয়েই একটি সংস্থা গঠিত হয়।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বয়কট করার হুমকি দিয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
বিতর্ক ছাপিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের মাঠের সাফল্যকে বড় করে দেখছেন জয় শাহ। তিনি জানান, এবারের বিশ্বকাপ ভিউয়ারশিপ বা দর্শক সংখ্যার সব রেকর্ড চুরমার করে দিয়েছে। প্রথমবারের মতো ইতিহাসে একই সময়ে ৭২ লক্ষ মানুষ খেলা দেখেছেন।

সহযোগী দেশগুলোর পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে কড়া টক্কর দিয়েছে। নেদারল্যান্ডস পাকিস্তানকে চাপে ফেলেছিল। জিম্বাবুয়ে হারিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। নেপাল ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ইংল্যান্ডের শিবিরে। তিনি পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে লড়াকু মানসিকতা দেখানোর জন্য সব সহযোগী দলকে অভিনন্দন জানান।
বক্তব্যের শেষে বিশ্বজয়ী ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও কোচ গৌতম গম্ভীরের উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন জয় শাহ। তিনি সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেন, শীর্ষ থেকে নিচে নেমে যেতে কয়েক মাস সময় লাগে, কিন্তু নিচ থেকে শীর্ষে উঠতে সময় লাগে কয়েক বছর। কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান। আমি যখন বিসিসিআই’তে ছিলাম, তখন ২০২৮ অলিম্পিক পর্যন্ত পরিকল্পনা করেছিলাম। এখন আপনারা ২০৩০, ২০৩১ এমনকি ২০৩৬ সালের প্রস্তুতি শুরু করুন।
বাংলাদেশের অনুপস্থিতি এবং পাকিস্তানের টালমাটাল অবস্থানের মাঝেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাঠের লড়াই ও দর্শক প্রিয়তায় এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। জয় শাহর বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে শৃঙ্খলা এবং সংহতিই আইসিসির কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ