ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের চলমান প্রতিশোধমূলক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৭৮তম ধাপের ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এবার ইসরাইলের দিমোনা, তেল আবিব ও ইলাতের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। খবর প্রেস টিভি।
আইআরজিসি এই সর্বশেষ ধাপটিকে যুদ্ধের একটি 'তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি' হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যখন দেশটির সাধারণ মানুষ 'বজ্রমুষ্টি' নিয়ে রাজপথে লক্ষ লক্ষ মানুষের মিছিলে শামিল হয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সংহতি জানাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে শত্রুর আস্তানায় ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযানের এই সর্বশেষ পর্যায়টি যুদ্ধের ইতিহাসে একটি অনন্য রেকর্ড স্থাপন করেছে। এতে আরও জানানো হয়, দখলকৃত ইলাত বন্দর, দিমোনা- যেখানে ইসরাইলি শাসনের কুখ্যাত পারমাণবিক চুল্লি অবস্থিত এবং উত্তর তেল আবিবে ইরানের যুগান্তকারী ‘ইমাদ’ ও বহুমুখী মারণাস্ত্রবাহী ‘কদর’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ড্রোন ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়েছে।
কয়েক দিন আগে দিমোনা ও নিকটবর্তী আরাদ শহরে চালানো এক পাল্টা হামলায় দুশো’র বেশি মানুষ হতাহত হওয়ার পর, এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আইআরজিসি দিমোনায় আঘাত করল। এই হামলার রেশ দখলকৃত অঞ্চলজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকেও এই ৭৮তম ধাপের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে আইআরজিসি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, আইআরজিসি এখন এই শিশুহত্যাকারী আগ্রাসীদের সাথে শুধু আঘাত-নির্ভর অভিযানের মাধ্যমেই আলোচনা করছে। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আইআরজিসির বেশিরভাগ যুদ্ধ ইউনিট এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের লক্ষ লক্ষ 'বাসিজ' স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করেনি। যদি তাদের সম্পৃক্ত করা হয়, তবে সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যা আগ্রাসীদের জন্য সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পরাজয় আড়াল করতে বা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে শত্রুপক্ষের যে কোনো প্রচেষ্টা তাদের নজর এড়াবে না। যেকোনো পর্যায়ের আগ্রাসনের পরিকল্পনাকারী, বাস্তবায়নকারী এবং সমর্থকদের ওপর ইরানের তীব্র আঘাত নেমে আসবে চোখের পলকের চাইতেও কম সময়ে।
গত মাসের শেষের দিকে ইরান লক্ষ্য করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের উস্কানিমূলক হামলার পরপরই ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ শুরু হয়েছিল।
ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়েই ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি