ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনা এবং এই প্রক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরোক্ষ সমর্থনের খবরে ইরানি নাগরিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরে ক্ষমতার বিন্যাসে কালিবাফের উত্থানে ট্রাম্প প্রশাসন সহায়তা করতে পারে, এমন জল্পনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার কালিবাফের অতীত রেকর্ড নিয়ে ইরানিরা ব্যাপক প্রশ্ন তুলেছেন। ১৯৯৯ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে তাঁর হিংস্র ভূমিকার কথা তিনি নিজেই বহুবার গর্বভরে স্বীকার করেছেন। এছাড়া তেহরানের মেয়র হিসেবে তাঁর ১২ বছরের শাসনামল ছিল দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে জর্জরিত।
তুরস্কভিত্তিক ইরানি সাংবাদিক আতা মোহাম্মদ তাবরিজি সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, কালিবাফ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অন্যতম দুর্নীতিবাজ ও সুবিধাবাদী চরিত্র।
অন্যতম সাংবাদিক মরিয়ম মকদম কালিবাফ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারির দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি কালিবাফের স্ত্রীর চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানের বিতর্কিত কার্যক্রম থেকে শুরু করে বিদেশে তাঁর ছেলেদের সম্পদ ও আবাসন সংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয়গুলো সামনে এনেছেন।
সাধারণ ইরানিদের মতে, এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তির সাথে আলোচনা করা এই সংকটের কোনো নৈতিক সমাধান হতে পারে না।
যদিও তেহরান ওয়াশিংটনের সাথে যে কোনো ধরনের আলোচনার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে, তবুও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে আসা তথ্যগুলো অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইসরাইল সম্ভবত কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে। এর ফলে গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলছে, পর্দার আড়ালে হয়তো বড় কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
ইরানিদের বড় অংশ মনে করে, কালিবাফের মতো একজন ব্যক্তিকে আলোচনার টেবিলে বসানো মানে হলো দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং দমনমূলক নীতির বৈধতা দেওয়া। ট্রাম্প প্রশাসন যদি সত্যিই তাঁকে সমর্থন দেয়, তবে তা ইরানের সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী হবে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
স্থলযুদ্ধে আমেরিকাকে ‘পঙ্গু’ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
খার্গ দ্বীপে আমেরিকার জন্য মরণফাঁদ তৈরি করছে ইরান
চুক্তি না করলে পরিণতি ভালো হবে না, ইরানকে ট্রাম্প