যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাকে ‘একপেশে এবং অন্যায্য’ বলে অভিহিত করেছেন ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে, তিনি এটিও জোর দিয়ে বলেছেন, শান্তি আলোচনার জন্য আপাতত কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা না থাকলেও কূটনীতির পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
ওই কর্মকর্তা জানান, পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পাঠানো এই প্রস্তাবটি বুধবার রাতে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিরা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এই প্রস্তাবে সফল হওয়ার মতো ন্যূনতম প্রয়োজনীয় শর্তগুলোর অভাব রয়েছে এবং এটি মূলত শুধু মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থ রক্ষা করে। তবে ওয়াশিংটন যদি বাস্তবমুখী অবস্থান গ্রহণ করে, তবে এই সংকট সমাধানের জন্য একটি পথ এখনো খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে তিনি যোগ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে এই সংঘাত নিরসনে আলোচনার বিষয়ে ‘সিরিয়াস’ বা আন্তরিক হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান একটি চুক্তির জন্য মিনতি করছে। যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান মানেই আলোচনা নয় এবং আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার অভিপ্রায় তাদের নেই।

‘তাদের দ্রুত সিরিয়াস হওয়া উচিত’
ইরানি আলোচকদের ‘খুবই ভিন্ন এবং অদ্ভুত’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই তাদের সিরিয়াস হওয়া উচিত। কারণ একবার সময় পার হয়ে গেলে আর ফিরে আসার পথ থাকবে না এবং পরিস্থিতি মোটেও সুখকর হবে না।
ট্রাম্প পরবর্তীতে ইরানিদের ‘চমৎকার দরকষাকষিকারী’ হিসেবে বর্ণনা করলেও তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে তাদের সাথে চুক্তি করতে তিনি ইচ্ছুক কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
বিভিন্ন সূত্র ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধে আমেরিকার ১৫ দফার ওই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা থেকে শুরু করে কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার মতো দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানি সূত্রগুলোর মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান তাদের অবস্থানে আরও অটল হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে আর কোনো সামরিক হামলা না হওয়ার গ্যারান্টি, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাচ্ছে। আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের এও বলেছে যে, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ইরানকে পুরোপুরি দমনের ডাক দিলেন আমিরাতি দূত
কালিবাফের সঙ্গে মার্কিন আলোচনার গুঞ্জনে ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়া