স্প্যানিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের ডার্বি ম্যাচ মানেই টানটান উত্তেজনা, কিন্তু রোববার লা লিগা দ্বিতীয় স্তরের এক ম্যাচে রিয়াল জারাগোজা বনাম হুয়েস্কার ম্যাচটি যা দেখালো, তাকে ফুটবল না বলে রীতিমতো ‘রেসলিং’ বলাই ভালো! জারাগোজার আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এস্তেবান আন্দ্রাদার মেজাজ হারানোর চরম মাশুল এখন গুনতে হচ্ছে পুরো ক্লাবকে। এই ঘটনা এখন রীতিমতো ফুটবল বিশ্বে ভাইরাল।
ম্যাচটি ছিল দুই দলের টিকে থাকার লড়াই। ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা জারাগোজার জন্য সময় তখন বয়ে যাচ্ছিল। ইনজুরি টাইমে হুয়েস্কার হোর্হে পুলিদোকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ায় রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান ৩৫ বছর বয়সী আন্দ্রাদাকে। কিন্তু নাটকের তখনও বাকি ছিল!
লাল কার্ড দেখার পর যেন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এই গোলরক্ষক। মাঠ ছাড়ার বদলে তিনি উল্টো দৌড়ে গিয়ে পুলিদোর মুখে সজোরে ঘুষি বসিয়ে দেন। ব্যাস, মুহূর্তেই সবুজ গালিচা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে! দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি আর ধস্তাধস্তিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এই মারপিটের জেরে হুয়েস্কার গোলরক্ষক দানি জিমেনেজ এবং জারাগোজার দানি তাসেন্দেকেও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে সব ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে আন্দ্রাদার সেই ‘পাঞ্চ’। মেক্সিকান ক্লাব মন্টেরি থেকে ধারে আসা এই গোলরক্ষককে এখন বড় শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে, লাল কার্ডের নিয়মিত শাস্তির বাইরেও ঘুষির অপরাধে তাঁকে ১২ ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হতে পারে। অর্থাৎ, রেলিগেশন জোনে থাকা জারাগোজার জন্য মৌসুমের বাকি পথটা আরও পাহাড়ি হয়ে গেল।
নিজেদের খেলোয়াড়ের এমন অপেশাদার আচরণে লজ্জিত রিয়াল জারাগোজা কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আমরা এমন দৃশ্য দেখেছি যা এই খেলাটির জন্য চরম অবমাননাকর। ডার্বি ম্যাচের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টকে এভাবে কলঙ্কিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্লাবটি আরও স্পষ্ট করেছে, আন্দ্রাদার এই কান্ডের জন্য তারা অভ্যন্তরীণভাবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে।
মাঠের লড়াইয়ে হারের সঙ্গে আচরণের লড়াইয়েও হেরে বসল জারাগোজা। এখন দেখার বিষয়, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এই ‘বক্সিং’ পারফরম্যান্সের জন্য আন্দ্রাদাকে কতদিনের জন্য গ্যালারিতে বসিয়ে রাখে!
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
