ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে নিজের ফিটনেস নিয়ে চলা সব সমালোচনা ও কানাঘুষোকে একহাত নিলেন দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। সমালোচকদের মন্তব্যকে ‘বাজে বকওয়াজ’ বলে উড়িয়ে দিয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই মহাতারকা সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, গুরুতর চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে তিনি সর্বোচ্চ কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠ কাঁপাতে তিনি এখন সম্পূর্ণ ফিট।
রোববার রাতে করিতিবার বিপক্ষে সান্তোসের ৩-০ গোলের তেতো হারের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভেতরের জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দেন নেইমার। ২০২৩ সালের সেই ভয়াবহ চোট ও হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর প্রায় এক বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই পোস্টার বয় বলেন, শারীরিকভাবে আমি এখন দারুণ বোধ করছি। প্রতিটা ম্যাচেই আমার উন্নতি হচ্ছে। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং কাজটা মোটেও সহজ ছিল না, আমি তা স্বীকার করছি।

নিজের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার দিনগুলোর কষ্ট শেয়ার করে তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। অথচ এই সময়ে আমার কন্ডিশন নিয়ে এবং আমি কী করছি না করছি তা নিয়ে লোকে কতশত আজেবাজে কথা বলেছে! মানুষ যেভাবে এসব নিয়ে কথা বলে, তা সত্যিই দুঃখজনক। যখন লোকে এসব বলত, আমি ঘরে বসে নীরবে ভুগেছি এবং কঠোর পরিশ্রম করে গেছি। অবশেষে সব কিছু ঠিকঠাক হয়েছে। আমি ঠিক যেভাবে, অক্ষত শরীরে যেখানে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম, সেখানে পেরেছি। নিজের পারফরম্যান্স এবং এ পর্যন্ত যা কিছু করেছি, তা নিয়ে আমি খুশি।
ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন, শুধু ১০০ ভাগ ফিট খেলোয়াড়দেরই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে রাখা হবে। সোমবারই ব্রাজিলের সেই বহুল প্রতীক্ষিত ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। কোচের সিদ্ধান্তের ওপর নিজের পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে নেইমার বলেন, যাই ঘটুক না কেন, আনচেলত্তি এই (বিশ্বকাপের) লড়াইয়ের জন্য সেরা ২৬ জন খেলোয়াড়কেই বেছে নেবেন।

দলের ভাগ্যনির্ধারণের ঠিক আগের দিনই সান্তোসের হয়ে ম্যাচে রেফারিংয়ের এক মারাত্মক ভুলে অসময়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল নেইমারকে, যা নিয়ে সাইডলাইনে চরম ক্ষোভ ও রাগে ফেটে পড়েন তিনি। তবে মাঠের সেই নাটকীয়তাকে পেছনে ফেলে নেইমার এখন শুধুই হেক্সা মিশনের স্বপ্নে বিভোর।
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে নিজেদের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে নামবে সেলেসাওরা। এবারের আসরে ‘গ্রুপ সি’-তে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। এখন দেখার বিষয়, সমালোচকদের মুখে চুনকালি দিয়ে আনচেলত্তির চূড়ান্ত বিশ্বস্ত সেনাপতিদের তালিকায় নেইমারের নাম জ্বলজ্বল করে কি না!
