গালে গুরুতোর চোট এবং পরবর্তী অস্ত্রোপচারের ধকল কাটিয়ে অবশেষে নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্যপূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন ক্রোয়েশিয়ার জীবন্ত কিংবদন্তি অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ফিফা বিশ্বকাপের জন্য সোমবার ক্রোয়েশিয়ার ২৬ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন দলটির হেড কোচ জ্লাতকো দালিচ। এই মূল স্কোয়াডের পাশাপাশি আরও ৭ জন খেলোয়াড়কে ‘স্ট্যান্ডবাই’ বা অতিরিক্ত হিসেবে রাখা হয়েছে।
আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১ জুন হলেও, দালিচ তাঁর মূল ভরসার জায়গাগুলো এখনই স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

গত মাসে ম্যাচে খেলার সময় গালে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন এসি মিলানের ৪০ বছর বয়সী মিডফিল্ড জাদুকর মদ্রিচ। তবে দ্রুতই তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন এবং ক্যারিয়ারের সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের মূল কান্ডারি হিসেবে তাঁকেই দেখা যাবে। ২০১৮ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী মদ্রিচের ঝুলিতে রয়েছে ১৯৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার বিশাল অভিজ্ঞতা।
অধিনায়কের ফিটনেস নিয়ে আশাবাদী কোচ দালিচ সাংবাদিকদের বলেন, মদ্রিচ বর্তমানে মুখে একটি বিশেষ সুরক্ষামূলক ফেসিয়াল মাস্ক পরে অনুশীলন করছেন এবং বেশ ভালো করছেন। হয়তো এই সাময়িক বিরতিটি তাঁর শরীরের জন্য আরও ভালো হয়েছে। আমরা তাঁর কন্ডিশন পর্যবেক্ষণ করব, তবে তাঁকে নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বিশ্বকাপের আগেই সেরা ফর্মে ফিরবেন।

ক্রোয়েশিয়ার এবারের দলটিতে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি রক্ষণভাগে বেশ কিছু উদীয়মান প্রতিভার দারুণ এক সংমিশ্রণ দেখা গেছে। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে ম্যানচেস্টার সিটির ২৪ বছর বয়সী তারকা জশকো গভার্দিওল এবং টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে ধারে হামবুর্গে খেলা ১৯ বছর বয়সী টিনএজার লুকা ভুশকোভিচকে মূল দায়িত্বে রাখা হয়েছে।
মজার বিষয় হলো, এই দুই ডিফেন্ডারই সম্প্রতি বড় ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন। গভার্দিওল পায়ের হাড়ের (টিবিয়াল) ফ্র্যাকচারের কারণে দীর্ঘ পাঁচ মাস মাঠের বাইরে থাকার পর চলতি মাসেই খেলায় ফিরেছেন। অন্যদিকে, ইউরোপের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ প্রতিভা ভুশকোভিচও হাঁটুর ইনজুরি কাটিয়ে দলে যোগ দিয়েছেন। টেক্সাসের আর্লিংটনে আগামী ১৭ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ উদ্বোধনী ম্যাচের আগেই গভার্দিওল তাঁর পুরো ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাবেন বলে আশা করছেন দালিচ।

বিশ্বকাপের মূল পর্বে ক্রোয়েশিয়াকে খেলতে হবে এল-গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড, আফ্রিকা জায়ান্ট ঘানা এবং পানামা। ২০১৭ সাল থেকে দলের দায়িত্বে থাকা দালিচের অধীনেই ক্রোয়েশিয়া ২০১৮ সালে রানার্সআপ এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন করে তাদের ইতিহাসের সফলতম সময় পার করেছে।
এবারের লক্ষ্য নিয়ে দালিচ বলেন, আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো গ্রুপ পর্বের বাধা পার হওয়া। আমি বরাবরের মতোই আশাবাদী, আমাদের দলে মানসম্পন্ন সিনিয়র এবং প্রতিভাবান তরুণদের এক দারুণ সমন্বয় রয়েছে। ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে রণকৌশল প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, ইংল্যান্ড এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চায়। তাই তাদের বিরুদ্ধে আমরা রক্ষণাত্মক ও শক্ত পোক্ত কৌশল নেব এবং মাঝমাঠে ফুটবলার বেশি রাখব। তবে ঘানা ও পানামার বিপক্ষে আমরা সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলব, যদিও কোনো ম্যাচই সহজ হবে না।

ঘোষিত ২৬ সদস্যের ক্রোয়েশিয়া স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: ডমিনিক লিভাকোভিচ (দিনামো জাগরেব), ডমিনিক কোতারস্কি (কোপেনহেগেন), আইভর পান্দুর (হাল সিটি)।
ডিফেন্ডার: জশকো গভার্দিওল (ম্যানচেস্টার সিটি), দুজে চালেতা-কার (রিয়াল সোসিয়েদাদ), জোসিপ সুতালো (আয়াক্স আমস্টারডাম), জোসিপ স্টানিসিক (বায়ার্ন মিউনিখ), মারিন পনগ্রাচিচ (ফিওরেন্টিনা), মার্টিন এরলিচ (মিডটজিল্যান্ড), লুকা ভুশকোভিচ (হামবুর্গ)।
মিডফিল্ডার: লুকা মদ্রিচ (এসি মিলান), মাতেও কোভাচিচ (ম্যানচেস্টার সিটি), মারিও পাসালিচ (আতালান্তা), নিকোলা ভ্লাসিচ (তোরিনো), লুকা সুচিচ (রিয়াল সোসিয়েদাদ), মার্টিন বাতুরিনা (কোমো), ক্রিস্টিয়ান জ্যাকিচ (আউগসবুর্গ), পিটার সুচিচ (ইন্টার মিলান), নিকোলা মোরো (বোলোনিয়া), টনি ফ্রুক (রিজেকা)।
ফরোয়ার্ড: ইভান পেরিসিচ (পিএসভি আইন্দহোভেন), আন্দ্রে ক্রামারিচ (হফেনহাইম), আনতে বুদিমির (ওসাসুনা), মার্কো পাসালিচ (অরল্যান্ডো সিটি), পিটার মুসা (ডালাস), ইগর মাতানোভিচ (ফ্রাইবার্গ)।
স্ট্যান্ডবাই (অতিরিক্ত খেলোয়াড়): লোভ্রো মাজের, ফ্রাঞ্জো ইভানোভিচ, ডিওন ড্রেনা বেলজো, ইভান স্মোলচিচ, কার্লো লেটিকা, আদ্রিয়ান সেগেচিচ এবং লুকা স্টোজকোভিচ।
