কাতার বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে ইনজুরির সেই অভিশপ্ত স্মৃতি ভুলে অবশেষে বিশ্বমঞ্চে কামব্যাক করছেন সেনেগালের পোস্টার বয় সাদিও মানে। আগামী মাসে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য বৃহস্পতিবার ২৮ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও। চার বছর আগে ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ মিস করা ৩৪ বছর বয়সী আল-নাসর ফরোয়ার্ড মানের জন্য এবারের আসরটি হারিয়ে যাওয়া সময় ও সুযোগ পুনরুদ্ধারের এক অগ্নিপরীক্ষা।
চলতি মাসের শেষের দিকে ফিফার চূড়ান্ত ডেডলাইনের আগে এই ২৮ জনের তালিকা থেকে দুজন খেলোয়াড়কে ছেঁটে ফেলে ২৬ সদস্যের মূল দল ঘোষণা করতে হবে কোচকে।

আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ মঞ্চে টিকিট পাওয়া দশ আফ্রিকান দেশের মধ্যে সেনেগালকেই ভাবা হচ্ছে সবচেয়ে বিধ্বংসী ও ভারসাম্যপূর্ণ দল। অভিজ্ঞতা আর গতিময় তরুণ অ্যাথলেটদের মিশেলে গড়া এই স্কোয়াডের আক্রমণভাগের মূল নেতা সাদিও মানে হলেও তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে দলে আছেন এক ঝাঁক তারকা। বায়ার্ন মিউনিখের গোলমেশিন নিকোলাস জ্যাকসন, এভারটনের ইলিমান এনদিয়ায়ে এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের গতিদানব উইঙ্গার ইসমাইলা সারকে নিয়ে গড়া সেনেগালের ফরোয়ার্ড লাইন যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য এক জীবন্ত আতঙ্ক।
মিডফিল্ডে বড় চমক হিসেবে ডাক পেয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের ১৮ বছর বয়সী বিস্ময় বালক বারা এনদিয়ায়ে। তবে লঁসের হয়ে চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত পারফর্ম করেও দলে জায়গা পাননি মালাং সার, যা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইনজুরির কারণে ক্লাবের হয়ে মৌসুমের শেষদিকের ম্যাচগুলো মিস করলেও অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গেয়িকে স্কোয়াডে রেখেছেন কোচ।

এছাড়া মাঝমাঠ সামলাতে সান্ডারল্যান্ডের হাবিব দিয়ারা এবং টটেনহ্যাম হটস্পারের পাপে মাতার সারের মতো বিশ্বস্ত অস্ত্র তো থাকছেই। রক্ষণের দেওয়াল শক্ত করতে অভিজ্ঞতার প্রতীক কালিদু কুলিবালির সাথে গোলপোস্টের নিচে গ্লাভস হাতে থাকছেন এডুয়ার্ড মেন্ডি।
সম্প্রতি মরক্কোয় অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবল খেলেছিল সেনেগালই। স্বাগতিক মরক্কোর বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচটিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও এক চরম বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হতে হয় তাদের। পরবর্তীতে সেই শিরোপা উত্তর আফ্রিকান দেশ মরক্কোকে দিয়ে দেয়া হলে জল বহুদূর গড়ায়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টি বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত বা ‘কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস’-এ নিয়ে গেছে।
কাপ হাতছাড়া হলেও মাঠের পারফরম্যান্স যে তাদের বিশ্বমানের, তা প্রমাণ করতেই এবার বিশ্বকাপে নামছে পাপে থিয়াওয়ের শিষ্যদের।

২০০২ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল সেনেগাল। সেবার কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল তারা, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে দলটির সেরা সাফল্য। এবারের বিশ্বকাপে আই-গ্রুপে থাকা সেনেগাল তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরুই করবে সেই পুরনো শত্রু ফ্রান্সের বিরুদ্ধে, আগামী ১৬ জুন নিউ জার্সিতে। একই ভেন্যুতে ২২ জুন তারা লড়বে নরওয়ের বিপক্ষে এবং ২৬ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে টরন্টোতে মুখোমুখি হবে ইরাকের।
২০১৮ সালে ভাগ্যের ফেরে (ফেয়ার প্লে পয়েন্ট ও লটারি) গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় এবং চার বছর আগে শেষ ষোলোতে থমকে যাওয়া সেনেগালের এই ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর জন্য সম্ভবত এটাই শেষ সুযোগ। সাদিও মানে, কুলিবালি ও মেন্ডিদের মতো কিংবদন্তিদের বয়স এবং ক্যারিয়ারের সমীকরণ বলছে, ২০০২ সালের শেষ আটের রেকর্ড ভেঙে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়াটাই তাদের শেষ কামড়।
সেনেগালের ২৮ সদস্যের স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: এডুয়ার্ড মেন্ডি (আল-আহলি), ইয়েভান দিউফ (নিস), মুরি দিও (লে হাভরে)।
রক্ষণভাগ: ক্রেপিন দিয়াত্তা (মোনাকো), আন্তোইন মেন্ডি (নিস), আবদুলায়ে সেক (ম্যাকাবি হাইফা), কালিদু কুলিবালি (আল-হিলাল), ইলায় কামারা (আন্ডারলেখট), মুসা নিয়াকাহাতে (লিওন), মামাদু সার (চেলসি), এল-হাদজি মালিক দিউফ (ওয়েস্ট হ্যাম), মুস্তফা এমবো (প্যারিস এফসি), ইসমাইল জ্যাকবস (গালাতাসারাই)।
মধ্যমাঠ: ইদ্রিসা গেয়ি (এভারটন), হাবিব দিয়ারা (সান্ডারল্যান্ড), পাপে মাতার সার (টটেনহ্যাম), পাপে গেয়ি (ভিয়ারিয়াল), লামিন কামারা (মোনাকো), পাথে সিস (রায়ো ভায়েকানো), বারা এনদিয়ায়ে (বায়ার্ন মিউনিখ)।
আক্রমণভাগ: সাদিও মানে (আল-নাসর), বাম্বা দিয়েং (লরিয়েন্ট), ইলিমান এনদিয়ায়ে (এভারটন), নিকোলাস জ্যাকসন (বায়ার্ন মিউনিখ), আসানে দিও (কোমো), ইব্রাহিম এমবায়ে (পিএসজি), শেরিফ এনদিয়ায়ে (সামসুনস্পর), ইসমাইলা সার (ক্রিস্টাল প্যালেস)।
