কোরবানির ঈদের বাকি আর মাত্র দু’চার দিন। ঘড়ির কাঁটা যতই এগোচ্ছে, রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে বেচাকেনার পারদ ততই তুঙ্গে উঠছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখন হাটগুলোতে পা ফেলার জায়গা নেই। ছোট-বড় নানা জাতের গরু, ছাগল আর মহিষের ডাকে মুখর চারপাশ। চারদিকে এখন টানটান উত্তেজনা আর উৎসবের আমেজ। ঢাকা ও এর আশপাশের হাটগুলোর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে খামারি ও ক্রেতাদের হাকডাকে জমে উঠেছে ঈদের বাজার।
এবার হাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে গাবতলী হাটে আসা এক জোড়া বিশাল আকৃতির ষাঁড়। খামারি ভালোবেসে পাশাপাশি বেঁধে রাখা এই যমজ ষাঁড়ের নাম দিয়েছেন ‘কালো জামাই’ এবং ‘সাদা জামাই’। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থেকে আসা এই রাজকীয় জামাই বাবুদের দেখতে হাটে রীতিমতো ভিড় জমে গেছে। তবে এই জামাইদের ঘরে তুলতে গেলে পকেট থেকে খসাতে হবে বিশাল অঙ্কের টাকা; খামারি এই জোড়ার দাম হাঁকিয়েছেন ওরে বাবা, একেবারে ৫৫ লক্ষ টাকা! বড় ক্রেতারা এই বিশাল জোড়া কিনতে দরদাম করলেও সাধারণ ক্রেতারা দূর থেকে সেলফি তুলেই মন ভরাচ্ছেন।

বিক্রেতা ও ব্যাপারীরা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে ট্রাকে পশু আসছে। বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হলেও তাদের আসল আশা শেষ দুই দিনের ওপর। শেষ মুহূর্তে বাজার আরও গরম হবে এবং কাঙ্ক্ষিত দামে তারা পশু বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
পশুর হাটে ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়লেও এবার বাজারের আসল হাওয়া কিন্তু ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দিকে। বড় গরুর পেছনে মানুষ লাইন দিলেও হাটে সবচেয়ে বেশি কাটতি দেখা যাচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা দামের গরুর। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের প্রধান টার্গেট এই মাঝারি সাইজের গরুগুলোই। অনেকেই সাধ আর সাধ্যের মধ্যে পছন্দের কোরবানি মেলাতে পেরে মুখে চওড়া হাসি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।
পশুর হাটের এই উপচে পড়া ভিড়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পকেট যাতে সুরক্ষিত থাকে, সেজন্য পুরো কোমর বেঁধে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে জাল টাকা শনাক্তকরণ এবং অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির খপ্পর থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে হাটগুলোতে বিশেষ বুথ ও তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।

সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে র্যাবের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে টাকা লেনদেন নিশ্চিত করতে র্যাবের বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, ঈদের আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি থাকতে রাজধানীর পশুর হাটগুলো এখন যেন এক জমজমাট মিলনমেলা।
