বিশ্বমঞ্চে নবাগত হলেও কেপ ভার্দেকে নিয়ে সাবধান!

বিশ্বকাপ দল পর্যালোচনা

আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০৯:০০ এএম

স্ফটিক-স্বচ্ছ নীল পানি আর ধবধবে সাদা বালুকাময় সৈকতের জন্য গোটা বিশ্বজুড়ে পরিচিত আটলান্টিক মহাসাগরের ১০টি দ্বীপের ছোট্ট এক দেশ কেপ ভার্দে। তবে এবারের গ্রীষ্মে পর্যটনের জন্য নয়, বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে বিশ্বমঞ্চের সব আলো কেড়ে নিতে প্রস্তুত এই দ্বীপরাষ্ট্রটি।

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে আফ্রিকা মহাদেশের ১০টি প্রতিনিধির অন্যতম হিসেবে প্রথমবারের মতো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে অভিষেক হতে যাচ্ছে দলটির। মহাদেশীয় পর্যায়ে একাধিকবার নিজেদের শক্তির জানান দেওয়ার পর, ‘ব্লু শার্কস’ বা নীল হাঙর ডাকনামের এই দলটি এবার বিশ্বমঞ্চে তাদের প্রথম পারফরম্যান্স দেখানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

কেপ ভার্দের এই রূপকথার মতো বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জন কাকতালীয়ভাবে পর্তুগাল থেকে তাদের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীর সঙ্গে মিলে গেছে। ফলে দেশের ফুটবলাররা বিশ্বসেরা দলগুলোর মুখোমুখি হয়ে তাদের ভক্তদের উদযাপনের আনন্দ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।


২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে আফ্রিকান অঞ্চলের বাছাইপর্বের প্রথম রাউন্ডে কেপ ভার্দে, যার পর্তুগিজ নাম ‘কাবু ভার্দে’ অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছে। ক্যামেরুন ও অ্যাঙ্গোলার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকা সত্ত্বেও গ্রুপ ‘ডি’-তে ১০টি ম্যাচের মধ্যে ৮টিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট কাটে তারা। বিশেষ করে নিজেদের মাঠে খেলা ৫টি ম্যাচের সবকটিতে জয় এবং একটি গোলও হজম না করার চমৎকার রেকর্ডটি তাদের এই ঐতিহাসিক যাত্রাকে সহজ করে তুলেছিল।

বাছাইপর্বের শেষ দিনে কেপ ভার্দে তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যামেরুনের চেয়ে দুই পয়েন্ট এগিয়ে ছিল। উল্লেখ্য, আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে ক্যামেরুন সর্বোচ্চ আটবার বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডধারী। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা যায়, কেপ ভার্দে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে ইতিহাস গড়েছে এবং ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে সরাসরি মূল পর্বে চলে গেছে।

মাত্র ৬ লাখ জনসংখ্যা এবং ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটি বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে কোয়ালিফাই করা তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে নাম লেখালো। এর আগে শুধু কুরাসাও (যারা এবারই প্রথম খেলছে) এবং ২০১৮ সালে আইসল্যান্ড এত ছোট দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল।


ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ৬৯তম স্থানে থাকা কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেয়া আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন র‍্যাংকিংয়ের দল। তবে বড় টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা তাদের একেবারে কম নয়। আফ্রিকার সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর ‘আফ্রিকা কাপ অব নেশনস’-এ তারা চারবার অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ২০১৩ ও ২৩ সালে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এমনকি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও তারা কোয়ালিফাই করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু শেষ ম্যাচে এসে তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়।

এবারের বিশ্বকাপে এইচ-গ্রুপে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের মুখোমুখি হতে হবে কেপ ভার্দেকে। এই গ্রুপে তাদের সঙ্গী ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট স্পেন, সাবেক চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে এবং ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দেওয়া সৌদি আরব।

কেপ ভার্দের গ্রুপ পর্বের সবকটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। আগামী ১৫ জুন আটলান্টা স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে। এরপর ২১ জুন মিয়ামি স্টেডিয়ামে উরুগুয়ে এবং ২৬ জুন হিউস্টন স্টেডিয়ামে সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে তারা।


দলের এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছেন প্রধান কোচ বুবিস্তা, যার পুরো নাম পেড্রো লেইতাও ব্রিতো। ২০০০ সালের শুরুর দিকে তিনি নিজে কেপ ভার্দে জাতীয় দলের হয়ে ২১টি ম্যাচ খেলেছেন এবং দীর্ঘদিন অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন।

অবসরের দুই বছর পর সহকারী কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে ২০২০ সালের শুরুতে তিনি প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। তাঁর সাড়ে ছয় বছরের কোচিং মেয়াদে কেপ ভার্দে পরপর দুটি আফ্রিকান কাপের নকআউট পর্বে খেলেছে এবং এবার বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

এই অনন্য অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৫ সালের আফ্রিকার বর্ষসেরা কোচের খেতাবও পান। নিজের জন্মস্থান বোয়া ভিস্তার ক্রিওলি নাম থেকে ‘বুবিস্তা’ ডাকনাম পাওয়া এই কোচ পুরো দলের মধ্যে এমন এক লড়াকু মানসিকতা তৈরি করেছেন, যার ফলে যেকোনো বড় দলের পক্ষে তাদের হারানো বেশ কঠিন।


বাছাইপর্বে কেপ ভার্দের হয়ে স্ট্রাইকার ডাইলন লিভরামেন্তো সর্বোচ্চ ৪টি গোল করেছেন। এছাড়া ডিফেন্ডার ডিনি, মিডফিল্ডার জামিরো মন্তেইরো এবং উইঙ্গার উইলি সেমেদো ২টি করে গোল করে দলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস, গোলরক্ষক ভোজিনহা এবং ডিফেন্ডার রবার্তো লোপেসের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা রয়েছেন এই দলের মেরুদণ্ড হিসেবে।

কেপ ভার্দে দলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এর মূল একাদশের খেলোয়াড়রা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নামী ক্লাবে পেশাদার ফুটবল খেলেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে গত মার্চ মাসে ফিফা সিরিজের অংশ হিসেবে নিউজিল্যান্ডে চিলি ও ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে তারা। চিলির কাছে ৪-২ গোলে হারলেও, ফিনল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় কেপ ভার্দে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কেপ ভার্দেকে আপাতদৃষ্টিতে ছোট দল বা ‘মিনো’ মনে করা হলেও, তাদের অবহেলা করা যেকোনো বড় দলের জন্যই মারাত্মক ভুল হতে পারে। ‘ব্লু শার্কস’ দলটির জায়ান্ট-কিলার বা বড় দলগুলোকে বিদায় করার এক বিশেষ খ্যাতি রয়েছে এবং আফ্রিকান বাছাইপর্বের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সেই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।

দলের এই অদম্য স্পিরিটকে কোচ বুবিস্তার একটি চমৎকার উক্তি দিয়ে সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা করা যায়; তিনি বলেছিলেন, আমরা মানচিত্রের হিসেবে হয়তো একটা ছোট দেশ, কিন্তু আমাদের রয়েছে একটি বিশাল বড় হৃদয়। আর, এই বড় হৃদয়ের জোরেই এবার বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাস লিখতে প্রস্তুত কেপ ভার্দে।

এআরএস
২০১৬ সালে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই কোপা আমেরিকার ফাইনাল হেরে যখন কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি, তখন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমার পক্ষে যা করা সম্ভব...
ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালকে কেন্দ্র করে পুরো ক্রীড়াবিশ্বের চোখ এখন নিউইয়র্কের দিকে। আর এরই মাঝে ধর্ণাঢ্য ব্যবসায়ী মোগল মাইকেল রুবিনের আয়োজনে জেভিটস সেন্টারে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী ‘ফ্যানাটিকস ফেস্ট’...
রূপকথার মতো ক্যারিয়ারে হাজার হাজার ছবি আর ভিডিও আপলোড করেছেন লিওনেল মেসি, কিন্তু বিশ্বকাপের ফাইনালের ঠিক আগের দিন তাঁর ইনস্টাগ্রামের সর্বশেষ পোস্টটি যেন একদম অন্যরকম এক আবেগের সুনামি বইয়ে দিয়েছে!...
১০ বছর আগে যে মাঠ সাক্ষী ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার ও হৃদয়বিদারক রাতের, ফুটবল ঈশ্বর যেন ঠিক সেই মঞ্চেই ফিরিয়ে আনলেন তাকে! যে কান্নায় একদিন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো ফুটবল বিশ্ব, আজ এক দশক পর ঠিক...
২০১৬ সালে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই কোপা আমেরিকার ফাইনাল হেরে যখন কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি, তখন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমার পক্ষে যা করা সম্ভব...
ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালকে কেন্দ্র করে পুরো ক্রীড়াবিশ্বের চোখ এখন নিউইয়র্কের দিকে। আর এরই মাঝে ধর্ণাঢ্য ব্যবসায়ী মোগল মাইকেল রুবিনের আয়োজনে জেভিটস সেন্টারে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী ‘ফ্যানাটিকস ফেস্ট’...
রূপকথার মতো ক্যারিয়ারে হাজার হাজার ছবি আর ভিডিও আপলোড করেছেন লিওনেল মেসি, কিন্তু বিশ্বকাপের ফাইনালের ঠিক আগের দিন তাঁর ইনস্টাগ্রামের সর্বশেষ পোস্টটি যেন একদম অন্যরকম এক আবেগের সুনামি বইয়ে দিয়েছে!...
১০ বছর আগে যে মাঠ সাক্ষী ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার ও হৃদয়বিদারক রাতের, ফুটবল ঈশ্বর যেন ঠিক সেই মঞ্চেই ফিরিয়ে আনলেন তাকে! যে কান্নায় একদিন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো ফুটবল বিশ্ব, আজ এক দশক পর ঠিক...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর