উত্তর আমেরিকার বিশ্বমঞ্চে ভোরে ফুটবল দুনিয়ার অন্যতম হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কো। হাই-প্রোফাইল এই মহারণের ঠিক আগমুহূর্তে মরক্কো শিবির থেকে প্রতিপক্ষের প্রতি ‘সম্মান’ প্রদর্শনের কথা বলা হলেও, পাঁচবারের বিশ্বসেরাদের বিন্দুমাত্র ভয় না পাওয়ার স্পষ্ট হুঙ্কার দেওয়া হয়েছে।
গত মার্চে আফ্রিকার কাপ অব নেশনস চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও এক নাটকীয় টেকনিক্যাল কারণে কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই বিদায় নেন এবং দলের দায়িত্ব নেন নতুন কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি। নতুন এই কোচের অধীনে মরক্কো মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের ফুটবল রণকৌশল দিয়ে ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

ম্যাচের রণকৌশল নিয়ে মরক্কোর প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্রাজিলকে রুখতে তারা চেনা ছকের বাইরে গিয়ে এক সুশৃঙ্খল ফুটবল উপহার দেবেন। মাঠের লড়াইয়ে মরক্কোর মূল লক্ষ্য থাকবে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে রাখা।
তবে আক্রমণ করতে গিয়ে বল হাতছাড়া হলে তারা কোনো প্রকার ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত রক্ষণভাগে ‘লো ব্লক’ তৈরি করবে। অর্থাৎ, নিজেদের অর্ধে রক্ষণভাগের নিরেট প্রাচীর গড়ে তুলে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস-রাফিনহাদের বোতলবন্দী করাই হবে তাদের প্রধান কাজ।

এরপর প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করেই চোখের পলকে ‘ফাস্ট ট্রানজিশন’ বা দ্রুতগতির কাউন্টার-অ্যাটাকের মাধ্যমে ব্রাজিলের ডিফেন্সে ফাটল ধরাতে চায় অ্যাটলাস লায়ন্সরা।
সংবাদ সম্মেলনে মরক্কোর আত্মবিশ্বাসী কোচ ওয়াহবি বলেন, আমরা খুব ভালো করেই জানি যে মরক্কো ফুটবল আজ কোন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাই ব্রাজিলের মতো দলকে আমরা একটুও ভয় পাই না। হ্যাঁ, ফুটবল বিশ্বে ব্রাজিল যে সম্মান পাওয়ার যোগ্য, আমরা অবশ্যই তাদের সেই সম্মান প্রদর্শন করব। তবে মাঠে আমাদের নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, শক্তি ও খেলার নির্দিষ্ট মূলনীতি রয়েছে। আমরা আজ বিশ্বমঞ্চে সেটাই দেখাতে মাঠে নামব যে কেন আমরা এখানে এসেছি এবং আমরা কী করতে পারি।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলে ইতিহাস গড়া মরক্কো দলে এবার যুক্ত হয়েছে কিছু নতুন ধারালো অস্ত্র। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও বিপজ্জনক নাম রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ‘নাম্বার ১০’ ব্রাহিম দিয়াজ । আক্রমণভাগে মরক্কোর মূল চালিকাশক্তি ও ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডার হিসেবে আজ ব্রাজিলের রক্ষণ চূর্ণ করার মূল দায়িত্ব থাকবে এই রিয়াল তারকার কাঁধেই। অন্যদিকে, বায়ার্ন মিউনিখের সাথে চুক্তির একদম কাছাকাছি থাকা তরুণ ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি হচ্ছেন মরক্কোর গোলের প্রধান ট্রাম্প কার্ড।

আক্রমণের পাশাপাশি ডিফেন্সেও মরক্কোর রয়েছে এক বিশ্বমানের ইস্পাতকঠিন প্রাচীর। পিএসজি’র তারকা রাইট-ব্যাক আশরাফ হাকিমি এবং আল-হিলালের অতন্দ্র প্রহরী গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো হচ্ছেন মরক্কোর রক্ষণভাগের প্রধান দুই স্তম্ভ। নায়েফ আগুয়ের্দের মতো তারকা ডিফেন্ডার ইনজুরিতে ছিটকে গেলেও হাকিমি ও বোনোর অভিজ্ঞতাই ব্রাজিলের সাম্বা আক্রমণ রুখে দিতে মরক্কোর সবচেয়ে বড় ভরসা। সব মিলিয়ে, আজ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরা ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মরক্কো যে এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেবে না, তা ম্যাচ শুরুর আগেই পরিষ্কার করে দিলেন মরক্কোর নতুন সেনাপতি।
