সৌদি আরবের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ (হুথি) আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বাখাইতি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হলে তার জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে উদ্ধৃত করে তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে এ তথ্য জানায়।
তবে এই প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল বাব আল-মান্দেব। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে হুথিদের হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে সৌদি আরব সাময়িকভাবে এই প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করে দেয়। পরে দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ওই নৌপথে আবারও তেল পরিবহন শুরু করে সৌদি আরব।
সম্প্রতি আল-মানার টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-বাখাইতি বলেন, সৌদি আরবের জাহাজ চলাচলের জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনকে ঘিরে চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের জন্যও ইতিবাচক হবে না।
তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি ইয়েমেনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটি আনসারুল্লাহর জন্য মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার আরও বড় সুযোগ তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি উত্তেজনার জবাব আরও শক্তিশালী প্রতিরোধের মাধ্যমে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সংঘাতের মাত্রাও বাড়ানো হতে পারে।
আল-বাখাইতি দাবি করেন, ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অন্তর্ভুক্ত দেশ ও গোষ্ঠীগুলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তার মতে, এ অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতা তৈরি করছে এবং সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আনসারুল্লাহ তাদের অবস্থান নির্ধারণ করছে।
হুথি নেতার এ মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইয়েমেনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল ওয়াহিদ আবু রাস সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সর্বোচ্চ সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োগ করেও যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের জনগণকে দমন করার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তার দাবি, শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন কার্যত নিজের ব্যর্থতা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
আবু রাস আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিজ্ঞতা থেকেও সৌদি আরব কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি। তার অভিযোগ, ইয়েমেনের ওপর অবরোধ বজায় রাখা এবং দেশটির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নীতিতে রিয়াদ এখনও অনড় রয়েছে। তবে এ ধরনের নীতির নেতিবাচক প্রভাব কেবল ইয়েমেনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; দীর্ঘমেয়াদে সৌদি অর্থনীতিকেও এর মূল্য দিতে হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালীকে ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই নৌপথ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য করিডোর। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ফলে এ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ কারণে বাব আল-মান্দেবকে ঘিরে যেকোনো সামরিক বা রাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ক্যামেরুনের কুখ্যাত কারাগারের চার দেয়ালে সুরের আলো!
ভারতে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?