কর্মক্ষেত্রে অসুস্থতা এবং দুর্ঘটনার কারণে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। দীর্ঘ কর্মঘন্টার কারণে এসব মৃত্যু বাড়ছে। করোনা মহামারী পরিস্থিতির মধ্যে এই মৃত্যু ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) অফিশিয়াল ওয়েব সাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
জাতিসংঘের স্বাস্থ্য ও শ্রম সংস্থার প্রথম যৌথ মূল্যায়নে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক রোগব্যাধি, আঘাত ও কর্মক্ষেত্রে চাপের কারণে এই মৃত্যুর হিসাব তুলে ধরে বলেছে, করোনা মহামারীর কারণে কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশের নাটকীয় পরিবর্তনের প্রভাব এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি।
ডাব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসাস এক বিবৃতিতে বলেছেন, এটা খুবই মর্মান্তিক যে চাকুরি ও কর্মক্ষেত্রে পরিবেশের কারণে অনেক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের রিপোর্ট জাগ্রত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা পরিষেবার সার্বজনীন সুবিধা প্রদানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে কাজের সাথে জড়িত বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৯ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০০০ সালে এই সংখ্যা ১৭ লাখ অতিক্রম করেছে। সপ্তাহে ৫৫ ঘন্টার অধিক সময় কাজ করা দীর্ঘ কর্মঘন্টা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এটি একটি প্রধান ঝুঁকি, ২০১৬ সালে এই দীর্ঘ কর্মঘন্টা জনিত কারণে সাত লাখ ৫০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়, ১৯টি পেশাগত ঝুঁকির কারণে এই জীবনহানি ঘটছে। কর্মক্ষেত্রে গ্যাস, ধোঁয়া এবং বাতাসের অন্যান্য দুষণের সংস্পর্শে আসায় এই স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটছে। দূষণের কারণে ২০১৬ সালে বিশ্বে চার লাখ পঞ্চাশ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় বাসচাপায় তিন অটোরিকশার যাত্রীর মৃত্যু
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ সালে কর্মক্ষেত্র সম্পর্কিত মৃত্যুর মধ্যে ৮২ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে দীর্ঘ কর্মঘন্টার কারণে। ২০১৬ সালে কর্মক্ষেত্রে ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি রোগে চার লাখ ১৫ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে। স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে চার লাখ লোকের। আর হৃদরোগে মারা গেছেন তিন লাখ ৫০ হাজার।
একাত্তর/আরবিএস
