প্রায় ২৫ বছর আগে, ২০০১ সালে 'রহনা হ্যায় তেরে দিল মে' সিনেমা দিয়ে বলিউডে পা রাখা মিষ্টি হাসির দিয়া মির্জা এবার তাঁর অভিনয় জীবনের এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন। সম্প্রতি জুম স্পটলাইট সেশনসে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ২০০৪ সালের 'তুমসা নেহি দেখা' সিনেমার একটি অন্তর্বাস পরা সাহসী গানের শ্যুটিংয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
শত শত পুরুষের সামনে ক্যামেরায় প্রায় পোশাকহীন হওয়ার পর কীভাবে তিনি নিজেকে বস্তুর মতো মনে না করে বরং উল্টো 'ক্ষমতায়িত' বোধ করেছিলেন, সেই গল্পই শোনালেন এই অভিনেত্রী।

দিয়া জানান, কোরিওগ্রাফার বৈভব মার্চেন্টের পরিচালনায় নির্মিত সেই গানটিতে তাকে একের পর এক পোশাক খুলতে হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে শুধু ব্রা-প্যান্টিতে! দিয়া বলেন, সেখানে প্রায় ৫০০ জনের এক পুরুষ দর্শকমণ্ডলী ছিল এবং শুটিং ইউনিটের ২০০ জনের বেশি ক্রুও ছিলেন প্রায় সবাই পুরুষ। কিন্তু সেই গানটি আমাকে এমন কিছু শিখিয়েছে, যা আমার অন্য কোনো সিনেমা শেখাতে পারেনি।

দিয়া আরও যোগ করেন, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে পুরুষালি দৃষ্টি বা 'মেল গেজ' দিয়ে আমি মোটেই প্রভাবিত নই। নিজের নারীত্ব, সৌন্দর্যকে আমি নিজের মতো করে উদ্যাপন করতে পারি এবং ওই দৃষ্টির সামনে কখনোই নিজেকে ছোট বা অবমিত অনুভব করার সুযোগ নেই।

এই অভিজ্ঞতা দিয়ার জন্য ছিল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এক অনুভূতির সূচনা। তিনি বলেন, সেখানে ভাট সাব (মহেশ ভাট), অনুরাগ বসু এবং ইমরান হাশমি উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই আমাকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছিলেন যে, বিষয়টি শুধু সস্তা শারীরিক প্রদর্শন নয়, এর পেছনে আরও গভীর কিছু আছে।

উল্লেখ্য, সিনেমাটি প্রথমে অনুরাগ বসু পরিচালনা করতে শুরু করলেও পরবর্তীতে মোহিত সুরি এর কাজ শেষ করেন। প্রযোজক ছিলেন মহেশ ভাট ও মুকেশ ভাট। ইমরান হাশমি ও দিয়া মির্জার পাশাপাশি সিনেমাটিতে অনুপম খের, শরৎ সাক্সেনাও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার মুখে দাঁড়িয়ে নিজের শরীর ও সৌন্দর্যের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার এই সাহসী অনুভূতির কথা এতদিন পর বেশ সাবলীলভাবেই প্রকাশ করলেন এই বলিউড সুন্দরী।
