চারপাশে সমুদ্রের নোনা পানি। নেই খাবার, সুপেয় পানি কিছুই। সমুদ্রের প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে নষ্ট হয়ে গেছে মাঝারি আকারের পাল তোলা নৌকা। সাথে আছে দুই সন্তান। নেই বাঁচার কোন আশা। এমনই প্রতিকূল পরিবেশে নিজের জীবন দিয়ে সন্তানদের জীবন বাঁচিয়ে গেলেন এক মা। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে ভেনেজুয়েলায়।
সন্তানসহ পরিবারের ৯ সদস্যকে নিয়ে গেল ৩ সেপ্টেম্বর ভেনেজুয়েলা থেকে ইয়াটে করে আটলান্টিক মহাসাগরের ক্যারিবীয় দ্বীপ লা তোর্তুগাতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন মেরিলি চ্যাকন (৪০)। মাঝ সমুদ্রে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায় ভাড়া করা 'থর দ্য হিগুরেতে' নামের ইয়াটটি।
ভাঙা নৌকার একটি অংশে তার ছয় বছর ও দুই বছর বয়সী দুই সন্তানকে নিয়ে সমুদ্রের প্রায় ৭০ মাইল ভেতরে ভাসতে থাকেন মেরিলি চ্যাকন। একদিকে প্রখর সূর্যের তাপ, অন্যদিকে খাবার ও পানীয়ের অভাব। টানা চারদিন ইয়াটের ভাঙা অংশে এভাবেই ভেসে ছিলেন সন্তানসহ মা।
.jpg)
উপায়ন্তর না দেখে শরীর ডিহাইড্রেশন মুক্ত রাখার জন্য নিজের প্রস্রাব পান করেছিলেন ওই নারী। আর সন্তানদের দিয়েছেন বুকের দুধ। তিন দিন গভীর সমুদ্রে এভাবে কাটালেও চতুর্থ দিন আর পারেননি। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, পানি শূন্যতার কারণেই মা মেরিলি চ্যাকন মারা যান।
ভাড়া করা ইয়াট ৫ সেপ্টেম্বর ফেরার কথা থাকলেও তা না ফেরায় খোঁজ নেয় ইয়াট সংস্থা। জানতে পারেন গন্তব্যেও পৌঁছায়নি ইয়াট। সন্দেহ হওয়ায় ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল মেরিটাইম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিষ্ঠানটি।
আরও পড়ুন: ই-কমার্স গ্রাহকদের লোভ কমাতে বললো হাইকোর্ট
এমন পরিস্থিতিতে গেল ৬ সেপ্টেম্বর মেরিলিদের খোঁজ শুরু করে ভেনেজুয়েলার মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ। অনুসন্ধানকারী দলটি লা অর্চিলা দ্বীপের কাছে ইয়াটের ভাঙা অংশ দেখতে পায়। ৭ সেপ্টেম্বর সকালে ওই দ্বীপ থেকে কিছুটা দূরে ইয়াটের একটি ভাঙা অংশে মায়ের নিথর দেহ আঁকড়ে দুই শিশুকে ভাসতে দেখেন উদ্ধারকারীরা।
কিন্তু উদ্ধারকারীরা আসার আগেই মারা যান মেরিলি চ্যাকন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মেরিলিদের উদ্ধার করা গেলেও বাকি সদস্যরা এখনও নিখোঁজ।
একাত্তর/টিএ
