দিল্লিতে ভোটের হিড়িক আর ক্ষমতার লড়াইয়ের মাঝে এখন সবচেয়ে চটকদার নাম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজিপি! প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় ‘১৩ কোটি ভোট হাওয়া’ করার অভিযোগে যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলেছে, তা নেভাতে পুলিশ প্রশাসন যখন মরিয়া, ঠিক তখনই আদালত থেকে এলো বড় খবর। বিমান থেকে নামতেই আটক হওয়া সিজিপির তিন তরুণ মুখ- অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে অবশেষে শর্তসাপেক্ষ মুক্তি দিল আদালত। তবে, বিচারক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী এক বছর শান্ত থাকতে হবে, কোনোভাবেই শান্তি ভঙ্গ করা যাবে না!

শনিবার দিল্লি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তারের পর রোববার সকালে দিল্লি ক্যাটনমেন্টের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পেশ করা হয় বোস্টন ইউনিভার্সিটির সাবেক ছাত্র অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর সঙ্গীদের। এর আগে নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে যার টানা আন্দোলনে পদত্যাগ করতে হয়েছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে, সেই একই অভিজিৎ এখন ‘সিজিপি’-র ব্যানারে কাঁপিয়ে দিচ্ছেন দিল্লির মসনদ। তাদের সমর্থনে সরব হয়েছেন দেশের সব বিরোধী দলগুলোও। শনিবার রাজপথ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্টেশনে প্রায় ৩ হাজার আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক নেতাকে পুলিশ আটক করে রাতে ছেড়ে দেয়। সেই তালিকায় ছিলেন মোদী সরকারের তীব্র সমালোচক তথা জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও।
শনিবার পুরো দিল্লিজুড়ে পুলিশ যে অভূতপূর্ব নিরাপত্তার ঘেরাটোপ তৈরি করেছিল, তাতে সাধারণ মানুষের কালঘাম ছুটে যায়। কড়া নিরাপত্তার জেরে আন্দোলনকারীরা বড় জমায়েত করতে না পারলেও পুরো শহর জুড়ে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ তোয়াক্কা না করে শনিবার মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখা নিয়ে জল গড়িয়েছে আদালত অবমাননার মামলা পর্যন্ত। যদিও রোববার সকাল থেকে মেট্রো চলাচল শুরু হয়েছে, তবে প্রতিটি গেটে বাসের লাইন আর উদ্যত পুলিশের উপস্থিতি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, রাজধানী এখনও থমথমে।

এদিকে বিরোধী জোটের পেছনে ‘শক্তির হাত’ দেখছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ করেছেন, সিজিপি আসলে বিরোধীদেরই এক অদৃশ্য ছায়া, যা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং খানিকটা নরম-গরম সুরে বলেছেন, গণতন্ত্রে অসম্মতি প্রকাশের অধিকার সবার আছে, কিন্তু নৈরাজ্য ছড়ানোর অধিকার কারও নেই। আজকের তরুণ প্রজন্ম বা 'জেন-জি' পথ হারালেও দেশের মূলস্রোত থেকে বিচ্যুত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে আটক কিংবা এক বছরের মুচলেকা, কোনো কিছুতেই পিছু হটতে নারাজ সিজিপি কর্মীরা। তাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ভোটার তালিকায় এই চরম কারচুপির যথাযথ জবাব ও জবাবদিহিতা না মেলা পর্যন্ত রাজপথের এই লড়াই একচুলও থামবে না!
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
