ছেলেধরা সন্দেহে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যা মামলার দুই শিশু আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু করেছেন আদালত। ৮ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করা হয়েছে।
বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার এই আদেশ দেন। অভিযুক্ত দুই শিশু জাফর ও ওয়াসিম এতদিন জামিনে ছিল।
গেল ১ এপ্রিল এই মামলার অন্য ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত। ওই আদালতে মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
বাড্ডায় এক স্কুল প্রাঙ্গণে ‘ছেলেধরা’ গুজবে ২০১৯ সালের ২০ জুলাই পিটিয়ে হত্যা করা হয় রেনুকে। গত বছর ৭ সেপ্টেম্বর এই দুই শিশুসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
মামলার নথিতে দেখা যায়, এই মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রিয়া বেগম, হৃদয় ইসলামসহ তিনজন। জবানবন্দিতে তারা জানান, সেদিন ঘটনার উসকানি দিয়েছিলেন আসামি রিয়া বেগম। মামলার প্রধান আসামি সবজি বিক্রেতা হৃদয় ইসলাম প্রথমে রেনুকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। আর প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে তাসলিমাকে চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে বের করে এনে দেয়ালের সঙ্গে আঘাত করতে থাকেন জাফর।
২০১৯ সালের ২০ জুলাই সকালে উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাসলিমা তার চার বছরের মেয়ের ভর্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে যান। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নারী তাকে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহ করেন। এই গুজব দ্রুত বাইরে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশ থেকে বিভিন্ন বয়সী কয়েক'শ নারী-পুরুষ স্কুল প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েন।
আরও পড়ুন: দেশের সব মোকামেই কমেছে চালের দাম
রেনুকে রক্ষা করতে দোতলায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে রাখা হলে কয়েকজন বিদ্যালয়ের কলাপসিবল গেট ভেঙে তাসলিমাকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামিয়ে পেটাতে শুরু করেন। প্রায় আধঘণ্টা নির্যাতনের পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তাসলিমা। তাসলিমার ভাগনে সৈয়দ নাসির উদ্দিন ওই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৪০০-৫০০ ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছিলেন।
নিহত তাসলিমা ইডেন কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেছিলেন। পরে তিনি সরকারি তিতুমীর কলেজে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর করেন।
একাত্তর/টিএ
