চলমান পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে শ্রমিক পরিচয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ছদ্মবেশে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরাও উসকানি দিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে এই বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন রাশেদ খান।
জবি ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্ব ও সহিংসতায় সম্পৃক্ততা: সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মূলত পোশাকশ্রমিক পরিচয়ে আন্দোলনের ভেতর ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। মিরপুরের তথাকথিত শ্রমিক আন্দোলনে সরাসরি নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলামকে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং সংলগ্ন পুলিশ বক্স ভাঙচুরের মতো যেসব নাশকতামূলক ঘটনা ঘটেছে, তাতে শ্রমিক পরিচয়ে মিশে থাকা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররাই সরাসরি জড়িত ছিলেন।
এছাড়া একই দিন দেয়া অপর এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, গাজীপুর অঞ্চলের শ্রমিকদের আন্দোলন উসকে দেওয়ার পেছনেও এই জবি ছাত্রলীগ নেতা যুক্ত রয়েছেন।
পতিত শক্তি ও নতুন বিরোধী দলের মেলবন্ধন: পোস্টে এনসিপি নেতা সারজিস আলমের একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট সংযুক্ত করে রাশেদ খান বলেন, বর্তমান বিরোধী দল ও পতিত শক্তি কীভাবে এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ সারজিস আলমের ওই পোস্ট। উল্লেখ্য, সারজিস আলমের পোস্টটিতে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে দেখা যায়।
রাশেদ খানের মতে, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা এভাবে পরোক্ষ সমর্থন ও উসকানি দিয়ে রাষ্ট্রকে অশান্ত করার পথ সুগম করে দিচ্ছেন, যা পতিত রাজনৈতিক শক্তিকে পুনর্বাসিত হতে সাহায্য করছে।
ডিসেম্বরকে লক্ষ্য করে নাশকতার ছক: রাশেদ খান দাবি করেন, উল্লিখিত দলগুলোর অঙ্গ-শ্রমিক সংগঠনগুলোও এই আন্দোলনের আড়ালে সক্রিয় রয়েছে। দেশবিরোধী একটি বিশেষ শক্তি আগামী ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে এ ধরনের আরও অসংখ্য বিতর্কিত ও সহিংস আন্দোলন গড়ে তোলার গভীর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বড় নাশকতার ছক!
সাভার ও গাজীপুরে কমপক্ষে ৮০ কারখানায় ছুটি
শ্রমিকদের কারখানায় ফেরার আহবান শ্রমমন্ত্রীর