ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশিল্পে চলমান আন্দোলন ও অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একইসঙ্গে আগামী ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে পোশাক খাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির যে কোনো অপচেষ্টাকে সরকার রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার রাতে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সরকারপ্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট করণীয় নির্ধারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এদিন সন্ধ্যায় অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং উপদেষ্টাদের নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যাতে কলকারখানা ও শিল্পকারখানা সঠিকভাবে সচল থাকে এবং জনগণের জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়। আমরা যেন এ বিষয়ে সবাই সজাগ থাকি এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করি, সে ব্যাপারে উনি সংশ্লিষ্টদের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
তিনি আরও জানান, একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহল ডিসেম্বরকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি তৈরি পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে, যা সরকার কঠোরভাবে ও রাজনৈতিক কৌশলেই সামাল দেবে।
এদিকে, আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে ছয় সদস্য বিশিষ্ট নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মজুরি বোর্ড শাখা থেকে এই গেজেট জারি করা হয়।
গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন মজুরি বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করল। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বোর্ড সভা ডেকে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে নতুন মজুরি কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। সরকার আশা প্রকাশ করছে, মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশের পর আন্দোলনরত শ্রমিকেরা রাজপথ ছেড়ে নিজ নিজ কারখানায় ফিরে গিয়ে কাজে আত্মনিয়োগ করবেন।
