আফগানিস্তান, সিরিয়া ও ইউক্রেনের মতন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলোর আশ্রয়প্রার্থীদের সাথে পাল্লা দিয়ে ইউরোপে বাড়ছে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা।
অবৈধপথে তাদের ইউরোপে আসার হার গত ছয় বছরের রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে ইইউ’র অ্যাসাইলাম এজেন্সি।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, ইউরোপ অবৈধদের রাখতে না চাইলে, দেশে ফেরত আনা হবে তাদের।
২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় আবেদন সংক্রান্ত সংস্থা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম বা ইইউএএ।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিগত বছরের তুলনায় এই আবেদনের হার বেড়েছে ৫০ শতাংশ, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আশ্রয় আবেদনকারী দেশগুলোর শীর্ষ তিন দেশ হলো সিরিয়া, আফগানিস্তান ও তুরস্ক। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছয়ে।
২০২১ সালে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে আশ্রয়ের আবেদন করলেও ২০২২ সালে বাংলাদেশি আশ্রয় আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজারে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইন অনুযায়ী নিজ দেশে বর্ণ, ধর্ম, জাতীয়তা ও রাজনৈতিক কারণে কেউ নির্যাতনের শিকার হলে বা কারো জীবন সংকট হলেই কেবল আশ্রয়প্রার্থীরা ইউরোপের দেশগুলোতে সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করতে পারেন।
লন্ডন সফরকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শাহরিয়ার আলম বলেন, যেকোন প্রকার অবৈধ অভিবাসনকে নিরুৎসাহিত করে বাংলাদেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন চাইলে অবৈধ আশ্রয়প্রার্থীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিতেও প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের ক্ষমতায় ফেরা, ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইউক্রেইনের আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা বাড়ার মূল কারণ।
আরও পড়ুন: আগুন ঝুঁকি মোকাবেলায় রাজধানীর গাউসিয়া মার্কেটে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল
অন্যদিকে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে লিবিয়িা, ইতালি, স্পেন, গ্রিস ও মাল্টাসহ পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছেন বাংলাদেশিরা।
একাত্তর/আরএ
