যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের শুভেচ্ছাপত্র পেলো ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ডব্লিউইউএসটি) শিক্ষার্থীরা।
বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র এই ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেছেন মার্কিন সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা সিনেটর চাক শ্যুমার, কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং এবং কংগ্রেসম্যান গ্যারি কনোলি, স্টেট সিনেটর শেখ রহমান ও চ্যাপ পিটারসন ছাড়াও সাবেক কংগ্রেসম্যান জিম মোরান।
স্থানীয় সময় শনিবার ডব্লিউইউএসটির শিক্ষার্থীদের ক্লাস অব টোয়েন্টি টোয়েন্টি থ্রি সমাবর্তন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জড়ো হয়েছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সমাদৃত শিক্ষানুরাগীসহ সমাজকর্মীরা। ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণও।
ভার্জিনিয়ার ফলস চার্চে জর্জ সি মার্শাল হাই স্কুলের আলো ঝলমল অডিটরিয়ামে গাউন ও হ্যাট পরে শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েশন প্যারেডে অংশ নেন, গ্রহণ করেন গ্র্যাজুয়েশন সনদ। এ উপলক্ষে প্রাঙ্গণটি ছিল বর্ণিল আয়োজন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা এনেছিলেন তারই প্রশাসনিক কর্মকর্তা বব জে ন্যাশ। চিঠিতে সাবেক ইউএস প্রেসিডেন্ট ডব্লিউইউএসটির কার্যক্রমের প্রশংসা করেন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি যেভাবে শিক্ষার সেবা দিয়ে যাচ্ছে, এই সেবা যেন অব্যাহত থাকে।
গ্র্যাজুয়েটেড শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ক্লিনটন বলেন, পরিবর্তনশীল পৃথিবীকে সঠিক পথ ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এখন আপনাদের।
সমার্তন শুরু হয় বেলা দুইটায়। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনের প্রকৃত যুদ্ধ এখান থেকেই শুরু, একটা দৃঢ়চেতা মন নিয়ে অব্যহত চেষ্টাই পারবে জীবনের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে।
সমাবর্তনে প্রধান অতিথি ও কি-নোট স্পিকার ছিলেন সাবেক ইউএস রিপ্রেজেন্টেটিভ জিম মোরান।
তিনি বলেন, ডাইভার্সিটিই যুক্তরাষ্ট্রের সেরা সৌন্দর্য। একজন প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে আবুবকর হানিপ এখানে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন, যা আমাদের গৌরবান্বিত করে।

ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির গ্র্যাজুয়েটদের এবং চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপকে শুভেচ্ছা জানান ইউএস সিনেটের মেজোরিটি লিডার সিনেটর চ্যাক শ্যুমার।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সকল সেক্টরেই রয়েছে শিক্ষার্থীদের সুযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগাতে এগিয়ে যেতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেটা পারবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ভিডিও শুভেচ্ছা বার্তায় কংগ্রেসম্যান গ্যারি কনোলি ও কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং সফলভাবে উচ্চ শিক্ষাসম্পন্নকারিদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্রমন্ডিত সমাজ ব্যবস্থায় একাকার হয়ে নিজ নিজ মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে চলমান উন্নয়ন-অভিযাত্রায় অবদান রাখার উদাত্ত আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হয়ে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে স্বীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত আরও অনেক বাংলাদেশি-আমেরিকান। যারা এই গ্র্যাজুয়েশন-কনভোকেশনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আইটি বিশেষজ্ঞ ও আইটি উদ্যোক্তা ড. ফয়সাল কাদির,মোলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি সৈয়দ জাকি হোসেন, ডব্লিউইউএসটির উপদেষ্টা মো. মিজানুর রহমান, মো. সিদ্দীক শেখ ডব্লিউইউএসটির সিএফও ফারহানা হানিপসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রির সনদ তুলে দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ড. মার্ক রবিনসন।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২১ সাল থেকে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সফল বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি আমেরিকানের হাতে পরিচালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে তথ্য-প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি ও এমবিএ- বিবিএ কোর্সে বর্তমানে বিশ্বের ১২১ দেশের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে।
একাত্তর/এসি
