পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেলে অবস্থিত আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনারটি বিদেশের মাটিতে বাঙালি ঐতিহ্য ও শোকের এক অনন্য প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মাতৃভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এই মিনারটি কেবল একটি স্থাপত্য নয়, বরং প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শহীদ মিনারটি যে পার্কে অবস্থিত, তার নামকরণ করা হয়েছে ১৯৭৮ সালের ৪ মে বর্ণবাদীদের হাতে নিহত বাংলাদেশি পোশাক শ্রমিক আলতাব আলীর স্মরণে। মাত্র ২৪ বছর বয়সী আলতাব আলীর সেই আত্মত্যাগ লন্ডনের বাঙালি সম্প্রদায়কে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। ১৯৯৮ সালে পার্কটির নাম পরিবর্তন করে তার স্মরণে ‘আলতাব আলী পার্ক’ রাখা হয়।
পূর্ব লন্ডনের ৫৪টি স্থানীয় বাংলাদেশি সংগঠনের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালে এই শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়। প্রায় ২২ হাজার পাউন্ড ব্যয়ে নির্মিত এই মিনারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন তৎকালীন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। ১৯৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়।
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে তৈরি এই মিনারটির নকশা করেছেন প্রখ্যাত শিল্পী হামিদুর রহমান ও ভাস্কর নভেরা আহমেদ। মিনারের পাঁচটি স্তম্ভ মূলত একজন মা এবং তার চার মৃত সন্তানকে আগলে রাখার প্রতীক। এটি ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভাষাগত পরিচয় ও সাংস্কৃতিক শেকড়ের প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে লন্ডনের প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখানে সমবেত হয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় মিনারের বেদি, যা বিদেশের মাটিতে একখণ্ড বাংলাদেশের আবহ তৈরি করে।
গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী