নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো নিয়ে ক্রেতার সঙ্গে রীতিমতো ইদুর-বিড়াল খেলায় মেতে উঠেছেন ব্যবসায়ীরা। আজকে এক পণ্য তো, পরের দিন আরেক পণ্যের দাম বাড়ছে।
চাল নিয়ে বাজারে চালাচালি নতুন কিছু নয়। কিন্তু আমনের ভরা মৌসুমেও আবারো চড়ছে চালের বাজার। গেল দুই তিন দিনে দাম বেড়েছে কেজিতে দুইথেকে তিন টাকা।
আর দাম বাড়ার অজুহাত নিয়ে বসেই থাকেন ব্যবসায়ীরা। এবারের অজুহাত হাওড়ে আগাম বন্যা আর ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে দুই তিন দিনের বৃষ্টি।
এই দুই কারণে নাকি ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই আমনের ভরা মৌসুমেও চালের দাম বাড়ছে। তবে টিসিবি’র দাবি, এক সপ্তাহে নতুন করে বাড়েনি কোন প্রকার চালের দাম।

এদিকে, চালের পাশাপাশি দাম বেড়েছ বিভিন্ন প্রকার ডালের দাম। কারণে সেই পুরনো। যোগান কম, তাই বাড়ছে।
সারাদেশে এরই মধ্য ৬৫ শতাংশ বোরো ধান কাটা হয়ে গেলেও, দাম না কমে উল্টো বাড়ছে চালের দাম।
ঢাকা এবং সাভারসহ রাজধানীর আশপাশের বাজারগুলোতে গেলো দুইতিন দিনে নতুন করে চালের দাম বাড়েছে দুই থেকে তিন টাকা।
এসব বাজারে মোটা চাল ৪৪-৪৮, মাঝারি চাল ৫০-৫৫ এবং সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৭০ টাকা কেজি। যদিওটিসিবি বলছে, গেল এক সপ্তাহে নতুন করে বাড়েনি চালের দাম।
চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখনও নতুন চাল সেভাবে আসতে শুরু করেনি বাজারে। আর দাম যেটুকু বেড়েছে সেটিও বাড়িয়েছেন মিলাররা।
তবে বোরোর আবাদে ধানের উৎপাদন কম ও খরচ বেশি হয়েছে বলে, জানান চাল ব্যবসায়ীরা। যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রত্যাশা এবার বোরোতে ২ কোটি ৭ লাখ টনের ওপরে চাল উৎপাদিত হবে। যা বার্ষিক চাল উৎপাদনের ৫৫ শতাংশ।
চালের পাশাপাশি বেড়েছে বিভিন্ন প্রকার ডালের দামও। ডালের পাইকারি বাজার সাভারের নামা বাজারে এক মাসের ব্যবধানে সব প্রকার ডালের দাম বেড়েছে কেজিতে গড়ে ১০ টাকা।
এই বাজারে বিক্রি হওয়া ১২৪ টাকা কেজির ভালো মানের মশুরডাল রাজধানীর খুঁচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।
এখানে যে মুগ আর মটর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১৬ টাকা কেজি। সেটির দাম ঢাকায় ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা।
আরও পড়ুন: শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা’র প্রশ্নপত্র ফাস চক্রের ১৩ সদস্য আটক
ডাল আমদানিকারকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারেই এখন ডালের দাম বেশি। তারসাথে এখন বাড়তি যোগ হয়েছে ডলারের বাড়তি মূল্য।
তবে চাল-ডালসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের অতিমূল্যের কারণে যাদের এখন নাভিশ্বাস অবস্থা, সেই ভোক্তাদের দাবি, শিগগিরই সহনীয় পর্যায়েআসুক পণ্যের দাম।
বাজার সহনীয় করতে অবশ্য সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তদারকি চলছে। কিন্তু আদতে তাতে কোন পণ্যেরই দাম কমছে না।
