চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সরকারের আয় কমলেও আমদানি, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় দিয়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা সামলে উঠেছে। কিন্তু ব্যাংকে কমেছে গ্রাহকদের আমানতের হার। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিশ্ব মন্দার সময়েও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে যে চাপ ছিলো তা সামালে ওঠা গেছে। আর বিশ্লেষকদের মত, দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকি এখনও কাটেনি।
বিশ্ববাজারে চড়া পণ্যের দাম আর পণ্য কিনতে ডলারের তেজিভাব, নিত্যপণ্যের আগুনে যেন বাজার পুড়ছে। দামের সেই আগুনে পকেট পুড়েছে সাধারণ মানুষের। সরকারি হিসাবে, মার্চে দেশে জীবনযাত্রার খরচ এখন প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে প্রায় ১০ টাকা বেশি।

তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যাংকে টাকা রাখা যেমন কমিয়েছে সাধারণ মানুষ, তেমনি বিপরীতে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেও বেশি। আর যারাও বা টাকা রাখছেন তারা ব্যাংকের বদলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।
এই মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে বাজারকে সহনীয় রাখতে পণ্য আমদানিতে গেলো বছরের মাঝামাঝি থেকে নজরদারি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এতেই গেলো বছরের তুলনায় মার্চ শেষে আমদানি কমে সার্বিকভাবে ঋণপত্র নিষ্পত্তির হারও কমেছে।

অন্যদিকে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টাও কম ছিলো না। যদিও মার্চ শেষে প্রবাসী আয় বাড়লেও, গেলো বছরের তুলনায় বিশ্ব মন্দার জেরে কমেছে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার মনে করেন, কোভিড পরবর্তী বিশ্বমন্দার জেরে পরপর দুই বছর সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা, তা সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সামাল দেয়া গেছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে ২.২৫ বিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক
অর্থনীতিবিদ ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, একদিকে আইএমএফের ঋণ, অন্যদিকে অ্যাডহক ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত, আপাতদৃষ্টিতে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির সূচকগুলোর পড়ন্ত অবস্থা রোধ করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
এ অবস্থায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার তাদিগ দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক নেতৃত্বে দূরদর্শিতা থাকতে হবে। কিন্তু সেখানে এখন স্পষ্ট ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
একাত্তর/এসি
