এ বছর সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে ৯০ থেকে ৯৫ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ করা যাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। সংগঠনটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সাভার ট্যানারি শিল্পে চার লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে ট্যানারিগুলো ঢাকার বাইরের চামড়া সংগ্রহ শুরু হবে।
শনিবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ।
এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাভার চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার তৈরি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার ন্যায্য দাম পাচ্ছে না ট্যানারিগুলো।
এসময় বিটিএ চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, ট্যানারি শিল্প এলাকা পুরোপুরি তৈরিতে বিসিক ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য নতুন করে সংস্কারের দায়িত্ব বিসিককে না দিয়ে দক্ষ কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হোক।
চামড়ার দাম না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ চলছে তা সঠিক নয় উল্লেখ করে শাহিন বলেন, এবার সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে চামড়া কিনবে ট্যানারি মালিকরা। লবণ, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়া এবার চামড়ার খরচ বেশি পড়বে।
তিনি বলেন, বৈরি আআবহাওয়ার কারণে শুরুতে ব্যবসায়ীরা চামড়া নষ্ট হওয়ার ভয় পেলেও তা হয়নি। দেশের বাইরে সুযোগ থাকার পরও রপ্তানিতে ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষি করে দাম বাড়ানো যাচ্ছে না কমপ্লায়েন্স ইসুতে।
চামড়ার দাম না পেলে তা ভারতে পাচার হওয়ার আশঙ্কা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবারও সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার হওয়ার শঙ্কা আছে, যা আগামীতে ভয়াবহ হতে পারে।
টাকা সঙ্কটের কারণে ট্যানারি মালিকরা এবার সরাসরি মাঠ থেকে চামড়া কিনতে পারেনি মন্তব্য করে বিটিএ সভাপতি বলেন, সাভারে সিইটিপিতে সরকার যদি ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা যদি পুনঃ বিনিয়োগ করে তাহলে এ শিল্প দাঁড়াতে পারে।
আরও পড়ুন: নাবিলকে জীবিত টেনে নিয়ে মরদেহ ফেরত দিলো সাগর
দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানিমুখী শিল্প বিবেচনায় সিইটিপি পুনঃনির্মাণে সরকারকে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগসহ চামড়া শিল্পের সম্ভবনা কাজে লাগাতে একটি আলাদা বোর্ড গঠনের দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এছাড়া চামড়া শিল্পের জন্য চামড়া ডেভলপমেন্ট বোর্ড গঠনের দাবিসহ চামড়া শিল্প নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবিও জানায় সংগঠনটি।
একাত্তর/এসি
