সরকারি নির্দেশনা পাত্তাই দিচ্ছে না আলু-পেঁয়াজের কারবারিরা। কেজি প্রতি আলুর সর্বোচ্চ দাম ৩৬ টাকা বেঁধে দিলেও, পাইকারিতেই তারা তা বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকায়। পেঁয়াজের সর্বোচ্চ দামও ৬৫ টাকা বেঁধে দিলেও, বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৮০ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, যতই মূল্য বেঁধে দেয়া হোক, বেশি দামে কেনা আলু-পেঁয়াজ তারা কম দামে কিছুতেই বিক্রি করবেন না। লোকসানের দায় তো সরকার নিবে না। কাজেই লাভ রেখেই আলু-পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে সোজা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন খুচরো ও পাইকারি বিক্রেতারা।
এ কারণে হিমাগারে তো নয়ই, সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি করছে না, পাইকারি বা খুচরা বিক্রেতারাও। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে ৫০ কেজির এক বস্তা আলুর কেজি প্রতি দাম পড়ছে, ৪০ থেকে ৪২ টাকা। আর, ৫ কেজির কমে যারা বিক্রি করেন না, তাদের কাছ থেকে এক পাল্লা আলু কিনলে দাম ওঠে ৪৬ টাকা। খুচরায় আধা বা এক কেজি আলু যারা কেনেন, তাদের কিনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়।
আলু ব্যবসায়ীরা বললেন, এসব নির্দেশনা আর যত অভিযানই হোক না কেন, বেশি দামে কেনা আলু তারা কম দামে বিক্রি করবেনই না। আলুর মতো অবস্থা পেঁয়াজের বাজারেও। বিক্রি হচ্ছে না সরকারের ঠিক করে দেয়া দামে। দেশি পেঁয়াজের কেজি সর্বোচ্চ ৬৫ টাকা বেধে দিলেও বিক্রি হচ্ছে ৭৮ থেকে ৮০ টাকায়।
পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের আমদানিকারক ও পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আবদুল মাজেদ বলেন, সরকারের ঘোষণার কিছুটা প্রভাব হয়তো পরে বাজারে পড়বে। তবে পেঁয়াজের দামের এখন যে অবস্থা, তার থেকে খুব বেশি কমবে বলে মনে হয় না। তাদেরকে বেশি দামেই পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দাম ঠিক করে দেওয়ার পাশাপাশি বাজারে অভিযান হচ্ছে। এতে খুচরা ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক ব্যবসায়ী এটাকে ‘সমস্যার গোড়ায় হাত না দিয়ে আগা ধরে টানাটানি’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক না হলে খুচরা বাজারে দাম কমানো সম্ভব নয়।
কঞ্জুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দাম বেধে দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা নিজেদের লোভ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, এভাবে অতি লাভের প্রবণতার লাগাম টানা যায় না।
উৎসস্থলেই নির্ধারিত দাম কার্যকর করতে না পারলে, ভোক্তা পর্যায়ে কোনো পণ্যেরই দাম কমানো সম্ভব নয় বলেও মনে করেন ক্যাব সভাপতি।
উল্লেখ্য, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডিম, আলু ও দেশি পেঁয়াজের দাম বেঁধে দেন। এর আগে কৃষিপণ্যের মূল্য পর্যালোচনা-সংক্রান্ত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম তদারকিতে শুক্রবার থেকে বাজার অভিযানে নামে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
‘আলুর কেজি কোন ভাবেই ৩৫ টাকার বেশি হওয়া উচিত না’