কারও দেড় যুগ আবার কারও বিশ ত্রিশ বছরের চেষ্টায় তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্ন ছাই হলো মাত্র ৫ ঘণ্টায়। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে লাগা আগুনে নিঃস্ব হলেন কয়েকশ’ ব্যবসায়ী। আগুনে পুড়েছে এই মার্কেটের ২১৭টি দোকান। পুড়েছে ক্যাশে থাকা লাখ লাখ টাকা। দোকান মালিকদের অভিযোগ, সময় মতো ফায়ার সার্ভিস এলে হয়তো কিছু মালামাল রক্ষা করতে পেতো।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট এখন পোড়া ছাইয়ের স্তূপ। প্রায় দেড়যুগ আগে এই বাজারে চালের ব্যবসা শুরু করেন সুমি। একটু একটু করে যে ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন; এক রাতের আগুনে সেটি এখন পোড়া ছাইয়ের ধ্বংসস্তূপ। যেটুকু চালের বস্তায় আগুনের ছোঁয়া লাগেনি। সেগুলো সবই পানিতে ভেসে গেছে। সেই বস্তাগুলোই রক্ষা করার চেষ্টা করছিলেন সুমী। তবে এই চেষ্টাতে তার ১১ লাখ টাকার মূলধন ফিরে আসবে না।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের চাল ব্যবসায়ী সুমি আক্তার বলেন, কম দামে এগুলো বিক্রি করবো।
পুড়ে যাওয়া দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আরেক ব্যবসায়ী রাসেল। নিজের সর্বস্ব বিনিয়োগ করে তিল তিল করে ছ’টি দোকান করেছিলেন। মুদি দোকান, চিড়া, গুড়, মড়ি ও চালের আলাদা আলাদা দোকান। সব মিলে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার মালামাল ছিলো। এখন সবই ছাই। ভেজা চাল যা উদ্ধার করতে পেরেছেন, তা বিক্রি করে বড় জোর বিশ হাজার টাকা হতে পারে।

চাল ব্যবসায়ী মোহাম্মাদ রাসেল বলেন, ৪২০০ টাকা বস্তার চাল বিক্রি করছি ৫-৬শ’ টাকায়। আর ২১-২২শ’ টাকার বস্তা বিক্রি করছি ২-৩শ’ টাকায়।
রাসেল নামের এই ব্যবসায়ী দুইদিন আগেই দুই লাখ টাকার চাল তুলছিলেন। নিঃস্ব রাসেল বলছেন, পাঁচ মাস আগে ধার-দেনা করে ৫ লাখ টাকার চাল দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। উদ্ধার হওয়া কয়েক বস্তা চাল মাত্র এক হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন।
মুদি দোকান, চালের দোকান, জুয়েলারি, কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে তিন শতাধিক বৈধ দোকান ছিলো মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে। তবে বৈধ-অবৈধ মিলে মোট দোকানের সংখ্যাটা পাঁচ শতাধিক। যার অর্ধেক পুড়েই পুড়ে গেছে।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে এই তালিকার ব্যবসায়ীদের কোন ক্ষতিপূরণ মিলবে কিনা সেটি এখনও স্পষ্ট নয়।
কৃষি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড : একের পর এক এসি বিস্ফোরণ
ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে কৃষি মার্কেটের আগুন
কৃষি মার্কেট অগ্নিকাণ্ড: পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি