ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান জানিয়েছেন, ইসরাইলের হামলায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় চলছে গাজায়। গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ও ওষুধ সংকট বিরাজ করছে উপত্যকায়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফিলিস্তিনের দূতাবাসে ওআইসির সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
বৈঠকে লিবিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব-আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপসহ ওআইসির বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ইসরাইলিরা এত ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরও আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে ধর্ষণ ও শিশুহত্যাসহ নানা বিষয়ে ফিলিস্তিনকে দোষারোপ করে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, গাজা জ্বলছে। খাবার, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা সেবাসহ সব কিছু ভেঙে পড়েছে। দ্রুত গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। সকল ফিলিস্তিনিকে টার্গেট করে হামলা করা হচ্ছে। তারা শিশু ও নারীদের টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে যা মানবাধিকারের পরিপূর্ণ লঙ্ঘন।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ফিলিস্তিনের পাশে আছে দেখে সকল ফিলিস্তিনির পক্ষ থেকে এই দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান বলেন, আরবের প্রতিনিধি আসবে আশা করেছিলাম, তারা হয়তো কোনো কারণে উপস্থিত হতে পারেন নি। আমেরিকান সরকারসহ সকল মানবিক রাষ্ট্রের কাছে আবেদন, আপনারা গাজায় জরুরি খাদ্যের ব্যবস্থা করুন।
শনিবার ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরাইলে নজিরবিহীন হামলা চালায়। হামাসের হামলার প্রতিশোধ নিতে পরে ওই দিনই প্রবল আক্রমণ শুরু করে ইসরাইল।
গাজার চিত্র পুরোপুরি পাল্টে দেওয়ারও হুঙ্কার দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওয়াভ গ্যালান্ত।
পাল্টাপাল্টি হামলায় এখন পর্যন্ত ২৭শ’র বেশি মৃত্যুর সংবাদ দিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
‘জরুরি অবস্থা মোকাবেলায়’ ঐক্যমতের সরকার গঠন করার ঘোষণা দেয় ইসরাইল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং বিরোধী নেতা বেনি গ্যান্টজ এই সরকার গঠনে সম্মত হন।
অপরদিকে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার একমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে এলাকাটি। হামাসের হামলার পর থেকে ইসরাইল গাজা অবরোধ করেছে রেখেছে। তার বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খাদ্য, পণ্য ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
বিবিসি বলছে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অর্থ হলো, জ্বালানি থাকা সাপেক্ষে গাজার নাগরিকরদের এখন জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হবে।
হাসপাতালগুলোতে যে জরুরি জেনারেটরের রয়েছে, তা বড়জোর দুই বা তিনদিন চলা যাবে।
হামাসের সব সদস্যকে হত্যার হুমকি নেতানিয়াহুর
ইসরাইলি হামলায় পালাচ্ছে আতঙ্কিত লেবানিজরা
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ফিলিস্তিনে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় সৌদি ও ইরান
জিম্মিদের মুক্তি না মেলা পর্যন্ত অবরোধ: ইসরাইলি মন্ত্রী