ইসরাইলের একের পর এক হামলায় গাজার কোথাও এখন নিরাপদ নয়। গোটা এলাকা অবরুদ্ধ হওয়ায় দেখা দিয়েছে খাবার, পানিসহ জ্বালানির চরম সঙ্কট। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাড়িয়েও মিলছে না পানি। এরইমধ্যে সেখানে থেকে তিন লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
পানির শূন্য ড্রামগুলো ভরতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে গাজার বাসিন্দরা। ইসরাইল এখানে খাদ্য জ্বালানিসহ সবধরনের প্রয়োজনী সরবরাহ বন্ধ করায় তীব্র পানি সংকটে মানুষ। শুধু পানি নয়, বেঁচে থাকার সব অবলম্বন ও সহযোগীতা বন্ধ হওয়ায় গাজায় নেমে এসেছে চরম মানবিক বিপর্যয়।
এখানে জীবন ধারণের জন্য ন্যূনতম কিছুই অবশিষ্ট নেই। খাবার নেই, পানি নেই। শিশুদের খাওয়ানোর মতো দুধ নেই, পরনের কাপড় নেই। আসলে এটা কোনো জীবন নয়।
জ্বালানি সঙ্কটে চলছে না গাড়ি। তাই, পানি সরবরাহের জন্য এখন ঘোড়ার গাড়িই একমাত্র ভরসা। যে যেভাবে পানি সংগ্রহ করে দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করছে।
ইসরাইলের হামলায় ধ্বংস্তুপে পরণিত গোটা এলাকা। স্যান্ডুইচের মতো লেপ্টে থাকা ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে শেষ সম্বলটুকে খোঁজার চেষ্টা করছেন অনেক বাসিন্দা।
এরইমধ্যে প্রায় ২৩ হাজার বাড়িঘর গুড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। ধ্বংস হয়েছে ১০ টি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র এবং ৪৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই পরিস্থিতিতে শেষ সম্বলটুকু সাথে নিয়ে যে, যেভাবে পারছে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন মানুষ। কারণ এই মুহুর্তে গাজার কোথাও এক মুহূর্তের জন্য নিরাপদ নয়।
সুস্পষ্ট নির্দেশনা বা নিরাপদ করিডোর ছাড়াই মানুষ বাড়ি ঘর ছাড়াছে। কারণ গাজার কোথাও এখন নিরাপদ নয়। এটি আরও উদ্বেগের বিষয়, কারণ হামলা অব্যহত থাকায় নির্দেশনার অভাবে আরও ধ্বংসাত্মক পরিণতি হতে পারে সেখানে।
এরইমধ্যে দেখা দিয়েছে ত্রাণ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট। ত্রাণকর্মীদের যা মজুদ আছে তা দিয়ে বড়জোর সপ্তাহখানেক চাহিদা মেটানো যাবে। এরপর পরিস্থিতি আরও ভয়বাহ হয়ে উঠার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সব সংকট ছাপিয়ে ইসরাইলের হামলায় নিহত গাজাবাসীর দাফন সম্পন্ন করছেন স্বজনেরা। প্রিয়জনদের শেষ বিদায়ে কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।
কেএসএইচ
