সরকারি ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে উপবৃত্তি ও শিক্ষাবৃত্তির তথ্য সংগ্রহ করে টাকা দেয়ার নাম করে প্রতারণার মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া একটি চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন বা র্যাব।
ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, কুমিল্লা ও ফরিদপুর থেকে এই চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রোববার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন র্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মুনীম ফেরদৌস।
গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন চক্রের মূলহোতা জাকির হোসেন হাওলাদার ও তার মূল সহযোগী মো. বাপ্পি মোল্লা। বাকি ছয়জন হলেন- উসমান গনি মোল্লা, শামীম হোসেন, মোহাম্মদ জিহাদ, কাজী সাদ্দাম হোসেন ওরফে আমির হামজা, আহাদ গাজি, মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে জয়।
র্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সিম কার্ড বিক্রেতারাও। তারা অন্যের নামে নিবন্ধন করা সিম দিয়ে প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহার করে।
আর উপবৃত্তি ও শিক্ষাবৃত্তির নামে অভিনব উপায়ে অর্থ হাতিয়ে নিতো এই চক্রটি। গত ২৪ মার্চ রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার শালবাগানের বিএনসিসির এক কর্মকর্তার কাছে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে।
ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে বিএনসিসির কর্মকর্তার মেয়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হিসাব রক্ষক হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর বলেন, মেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ায় শিক্ষা উপবৃত্তির সাড়ে বাইশ হাজার টাকা এসেছে।
ওই টাকা অ্যাকাউন্টে চলে যাবে বলে ব্যাংকের এটিএম কার্ডের ১৬ ডিজিটের নম্বর দিতে অনুরোধ করেন ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি। সরল বিশ্বাসে বিএনসিসি কর্মকর্তা নম্বর দিয়ে দেন। পরে কৌশলে ওটিপি নিয়ে ওই কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে থাকা দেড় লাখ টাকা তুলে নেয় প্রতারক চক্রের ওই সদস্য।

এরপরই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা করেন বিএনসিসির ওই কর্মকর্তা। রাজশাহীর র্যাব-৫ সদস্যরা জড়িতদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে। রাজশাহীর রাজপাড়ার শামীম হোসেন নামে প্রতারক চক্রের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরো তথ্য সংগ্রহের পর ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, কুমিল্লা ও ফরিদপুর থেকে র্যাবের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা তিনশোর বেশি মোবাইল ফোনের সিম কার্ড, ২৩টি মোবাইল ফোন সেট, তিন লাখ নগদ টাকা ও ব্যাংক লেনদেনের বেশকিছু স্লিপ।
উদ্ধার করা প্রতিটি সিম কার্ডেই রয়েছে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা কোম্পানির অ্যাকাউন্ট। র্যাব বলছে, সারা দেশে এই চক্রের দুই হাজারের বেশি সক্রিয় এজেন্ট রয়েছে। দরকষাকষির মাধ্যমে প্রতি হাজারে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কমিশনে প্রতারণার কাজ করতো তারা। আর চক্রের এজেন্ট হতে অগ্রিম দেয়া লাগতো ৫০ হাজার টাকা।
জিজ্ঞাসাবাদের পর র্যাব কর্মকর্তা বলছেন, এই চক্রের সদস্যরা ওয়েলকাম ও হ্যালো গ্রুপের সদস্য হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতেন। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সরকারি অফিস থেকে তারা শিক্ষা ও উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার তথ্য সংগ্রহ করে ওয়েলকাম অথবা হ্যালো গ্রুপের কল সেন্টারে শেয়ার করতো।
তথ্য হাতে আসার পর মূলহোতা জাকিরের দুই ছেলে মানিক ও হিরা সংশ্লিষ্টদের ফোন দিয়ে কথা বলে প্রথমে বিশ্বস্ততা অর্জন এবং এরপর ওটিপি নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করতো।
র্যাব বলছে, চক্রের সদস্যরা এক জায়গায় বেশি দিন থাকে না। মূল শহর থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করে। তবে টাকা ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের কাছ থেকে তুলে ফেলা হতো। চক্রের সদস্যরা পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে প্রতারণায় জড়িত বলে র্যাব জানিয়েছে।
বড় কর্তার স্ত্রী গ্রেপ্তার, সর্ষের মধ্যে ভূত!