দীপ্ত টেলিভিশনের সংবাদকর্মী তানজিল জাহান ইসলাম তামিমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় হাতিরঝিল থানার মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার মো. রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
শনিবার বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে গ্রেপ্তার রাসেলকে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম আজম।
এসময় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও চোরাই মাল উদ্ধারের স্বার্থে আসামিকে সাতদিনের রিমান্ডে নেয়ার জন্য আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালত আসামির চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন আদালতে শুনানিতে বলেন, সংবাদকর্মী হত্যার ঘটনায় জাতি স্তম্ভিত হয়েছে। বাসায় ঢুকে পুরো পরিবারকে আক্রমণ করা হয়েছে। যা সিসি টিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। আসামিরা প্রভাবশালী উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সর্বোচ্চ রিমান্ড চান তিনি।
অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. মাহবুবুর আলম সরকার বলেন, সন্দেহভাজন হিসেবে আসামি রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি একজন রিকশাচালক। ঘটনার সময় হট্টগোলে দেখে তিনি এগিয়ে যান। এ কারণেই সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা গেছে।
এসময় আসামি রাসেল আদালতে বলেন, আমি আক্রমণ করিনি। অপরাধ করিনি বিধায় পালিয়ে যাইনি।
তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. রুহুল কবির খান গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে রাসেলকে শনাক্ত করা হয়। তিনি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার একই মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি মো. আব্দুল লতিফ, মো. কুরবান আলী, মাহিন ওরফে মাহিম, মোজাম্মেল হক কবির ও মো. বাঁধনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিন করে রিমান্ড আদেশ দেয় আদালত।
পুলিশ জানায়, রাজধানীর রামপুরা মহানগর প্রজেক্টে বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে জমির মালিক ও প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ (প্রা.) লি. নামে একটি ডেভেলপার কোম্পানির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো।
দ্বন্দ্বের জেরে গত বৃহস্পতিবার ডেভেলপার কোম্পানির লোকজনের মারধরে গুরুতর আহত হন জমির মালিকের ছেলে ও দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
তামিমের মামা মাসুদ করিম সাংবাদিকদের জানান, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন তামিম। পরে দীপ্ত টিভির সম্প্রচার বিভাগে কাজ শুরু করেন। মহানগর প্রজেক্টের ওই বাড়ির সপ্তম তলায় দুটি ফ্ল্যাটে থাকে তামিমের পরিবার।
ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, তামিমদের মোট পাঁচটি ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিলো ডেভেলপার কোম্পানি প্লেজেন্ট প্রোপ্রার্টিজের। কিন্তু তামিমরা যে ফ্ল্যাটে থাকেন, সেটি বুঝিয়ে দিচ্ছিলো না। বিষয়টি নিয়ে বছর খানেক আগে একটি মামলাও হয়।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে রবিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বিএনপির
দীপ্ত টিভির তামিম হত্যায় পাঁচ আসামি রিমান্ডে