দীপ্ত টেলিভিশনের সংবাদকর্মী তানজিল জাহান ইসলাম তামিমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পাঁচ আসামিকে চার দিনের রিমান্ডে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে গ্রেপ্তার আসামিদের হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম আজম।
এ সময় তিনি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও চোরাই মাল উদ্ধারের স্বার্থে আসামিদের প্রত্যেককে ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আহমদের আদালত প্রত্যেক আসামির চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে পুলিশ জানায়, রাজধানীর রামপুরা মহানগর প্রজেক্টে বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে জমির মালিক ও প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ (প্রা.) লি. নামে একটি ডেভেলপার কোম্পানির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো।
দ্বন্দ্বের জেরে গত বৃহস্পতিবার ডেভেলপার কোম্পানি, জমির মালিক ও ভবনের অন্যান্য মালিকের মধ্যে ভাঙচুর এবং হাতাহাতির ঘটনায় গুরুতর আহত হন দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
তামিমের মামা মাসুদ করিম সাংবাদিকদের জানান, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন তামিম। পরে দীপ্ত টিভির সম্প্রচার বিভাগে কাজ শুরু করেন। মহানগর প্রজেক্টের ওই বাড়ির সপ্তম তলায় দুটি ফ্ল্যাট নিয়ে থাকে তামিমের পরিবার।
ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, তামিমদের মোট পাঁচটি ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিলো ডেভেলপার কোম্পানি প্লেজেন্ট প্রোপ্রার্টিজের। কিন্তু তামিমরা যে ফ্ল্যাটে থাকে, সেটি বুঝিয়ে দিচ্ছিলো না। বিষয়টি নিয়ে বছর খানেক আগে একটি মামলাও হয়।
ঘটনার আগের দিন ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে তামিমদের একটি সমঝোতা হয়। আট তলায় দুটি ফ্ল্যাট তাদের দেয়ার কথা জানানো হয়। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে আট তলার ফ্ল্যাটে লেবার দিয়ে কিছু কাজ করাচ্ছিল তামিম। তখন হঠাৎ ডেভেলপার কোম্পানির ব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফ মির্জা ও তার সন্ত্রাসীবাহিনী ফ্ল্যাটে অতর্কিত হামলা চালায়।
ফ্ল্যাট দখল নিতে সংবাদকর্মীকে পিটিয়ে হত্যা